চারদিনের মাথায় আবার দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এতে রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাসের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও সিএসজি চালকরা। জানা গেছে, এলএনজি নিয়ে সোমবার একটি নতুন জাহাজ এসেছিল। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে পারেনি টার্মিনাল। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়।
এদিকে, দুই সপ্তাহ পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ গত বৃহস্পতিবার কিছুটা বাড়লেও সোমবার আবার কমতে শুরু করে। এতে মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাসের সংকট আরও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমদানি করে আসা জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। এতে ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলে আজ বুধবার থেকে সরবরাহ বাড়তে পারে।
গ্যাসের সরবরাহ আবার কমে যাওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার জন্য এলএনজি’র জাহাজ টার্মিনালে নেয়া যায়নি। জাহাজ পাশেই রয়েছে। এজন্য গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এ ছাড়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হলেও বাকিটা আগামী দু’-একদিনের মধ্যে সক্রিয় করা যাবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা। তখন গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দু’টি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১শে জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দু’টি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার জন্য প্রস্তুত হলে তা পরীক্ষা করতে বর্তমানে চালু বয়লারটি বন্ধ করতে হবে। ওই সময় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। অন্তত ১২ ঘণ্টা বন্ধ রাখার পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তাই ছুটির দিনে গ্যাসের চাহিদা কম থাকার সময় এ কাজ করতে চায় পেট্রোবাংলা।
সূত্র জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরবরাহ চালুর বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জিকে। এরপর জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বর্তমানে দিনে গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করছে এটি।
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর টানা চারদিন সক্ষমতার বেশি এলএনজি সরবরাহ করেছে সামিটের টার্মিনাল। দিনে প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করেছে তারা। এর পর থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে দিনে গ্যাসের সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট পার হয়। সামিটের টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে ২৫ কোটি ঘনফুট। এতে করে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে।