Image description

নেত্রকোণায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিন-রাত মিলিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সোমবার নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের কাছে এ চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, নেত্রকোণা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নয়টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে জেলার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোট চাহিদা প্রায় ১৫৭ মেগাওয়াট। তবে গত কয়েক দিন ধরে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ৭ই আগস্ট রাত ১টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট। ৮ই আগস্ট বিকাল ৫ টায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যায় ৬৩ মেগাওয়াট। আর ৯ই আগস্ট রাত ১১টায় ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াট। সমিতির দাবি, দীর্ঘ সময় ১১ কেভি ফিডার বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র একসঙ্গে চালু হয়। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার জন্য কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন না করাকেও দায়ী করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমীতে অবস্থিত বিআর পাওয়ারজেনের ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট এবং আরপিসিএল ময়মনসিংহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের গালিগালাজ, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বকেয়া আদায়ে অভিযান চালানোর সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, গাজীপুরের বরমীর ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা হলে নেত্রকোণা গ্রিড উপকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিংও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে।

এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব অফিস এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারাও তীব্র লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেছেন। মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, দিনে-রাতে মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় গরমে রাতে ঘুমানো ও সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দুয়া উপজেলার কৈলাটি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, দিনেরাতে মিলিয়ে দুই আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। কখন বিদ্যুৎ আসবে এই আশায় থাকি আমরা।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলার বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুত লোডশেডিং কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।