Image description
বিএলআরআই’র গবেষণা

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) লাম্পি স্কিন ডিজিজ ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করার মতো সাফল্য রয়েছে। আরসিসি, হিলি চিকেন ও গয়ালের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং ও লবণসহিষ্ণু ঘাসের জাত (ঘাস-৫) উদ্ভাবনেও সফলতা দেখিয়েছে। কিন্তু উটপাখি পালন নিয়ে গবেষণার ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানটির সব সফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে।

ঢাকার সাভারে অবস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএলআরআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার ১৩৪ কোটি টাকার উটপাখি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেন। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল-দেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা। মূল লক্ষ্য ছিল-গরু-খাসির মাংসের বিকল্প উৎস হিসাবে উটপাখির বাণিজ্যিক খামার সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করা। এজন্য আফ্রিকা থেকে দুই দফায় ২২টি উটপাখি আনা হয়। ২০২০ সালে সাতটি এবং পরবর্তী সময়ে ১৫টি উটপাখি আনা হয়।

গবেষণার শুরুতে ড. সাজেদুল করিম জানিয়েছিলেন, প্রাপ্তবয়স্ক একটি উটপাখি থেকে ১০০-১৫০ কেজি মাংস পাওয়া সম্ভব। এ হিসাবে একটি উটপাখি কমপক্ষে দুটি দেশীয় গরুর সমান মাংসের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এ নিয়ে ছয় বছর ধরে গবেষণা চলে। কিন্তু গবেষণার ফল শূন্য। সব টাকা হাওয়া হয়ে গেছে। মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ পরীক্ষা করতেই ১৫টি জবাই করা হয়েছে। আর এ মাংস গেছে বিএলআরআই কর্মকর্তাদের পেটে। তিনটি মারা গেছে। এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে মাত্র দুটি পাখি।

শনিবার মোবাইল ফোনে ড. সাজেদুল করিম যুগান্তরকে জানান, দেশের আবহাওয়ায় উটপাখি পালনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এর অগ্রগতি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। চার বছর পরও দুটি উটপাখি বেঁচে থাকায় দেশে এর খামার করা নিয়েও আমি আশাবাদী। দেশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। গবেষণার মাঝপথে ১৫টি উটপাখি জবাই করে খাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, না বুঝে অনেকে এ নিয়ে আমাকে বিতর্কিত করছেন।

প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিমের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। ল্যাব ইনচার্জের দায়িত্ব তিনি স্ত্রীকে দিয়েছেন। এছাড়া প্রকল্পে শ্যালক, ভাগনি জামাই, বোনের ভাশুরের ছেলে, ভাতিজির জামাতা, ভাগিনা, মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী, চাচাতো ভাই এবং স্ত্রীর বোনের দেবরসহ ১৮ জনকে চাকরি দিয়েছেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সাজেদুল করিম বলেন, নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ড. সাজেদুল করিম সরকারের তত্ত্বাবধানে উটপাখি নিয়ে পিএইচডি করা শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় সব সময় সফলতা আসবে-এমন নয়। ব্যর্থতাও এর অংশ। উটপাখি দেশের আবহাওয়ার উপযোগী প্রাণী না হওয়ায় ধাপে ধাপে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা প্রয়োজন।

বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক জানান, আফ্রিকার উটপাখি দেশে এনে গবেষণা করা হয়েছে। কোন পরিবেশে তারা খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং এর মাংসের স্বাদ কেমন, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। বেশকিছু পাখি জবাইও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, দেশে উটপাখি পালন ও নতুন জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দূরদর্শী। বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন বা মাংসের চাহিদা পূরণ মোটেও সহজ নয়।