আজ জেনারেল মইন ইউ আহমেদের একটি পুরোনো ভিডিও আবারও সামাজিক মাধ্যমে সামনে এসেছে। সেখানে তিনি বলেন যে, পিলখানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে ভারতীয় স্পেশাল ফোর্স ঢাকায় অবতরণ করতে পারে—এমন একটি বিষয় তিনি “ভাসা-ভাসা” শুনেছিলেন, তবে সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক (official) সূত্র থেকে নয়।
এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। একটি সংকটময় জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একজন সেনাপ্রধানের কাছে তথ্যের উৎস সাধারণত নির্দিষ্ট, যাচাইকৃত এবং গোয়েন্দা বা কূটনৈতিক চ্যানেলভিত্তিক হওয়ার কথা। “ভাসা-ভাসা শুনেছি” ধরনের ব্যাখ্যা একটি সেনাপ্রধানের অবস্থান ও দায়িত্বের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ!
—তিনি মিথ্যা বলছেন?
—না তিনি মিথ্যা বলেননি! শেখ হাসিনা তাকে এটা বলেছেন “ভারত বলেছে আপনারা যদি পিলখানায় কোন অপারেশন পরিচালনা করেন তবে ভারতর সেনাবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তারা ঢাকায় সেনা পাঠাবে! আপনি নিশ্চয়ই খবর পেয়েছেন না হলে আপনার সোর্সের মাধ্যমে কনফার্ম করুন।”
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ভারত ও আওয়ামীলীগ হলেও তার সিংহভাগ ব্যার্থতার দায়িত্ব জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। শেখ হাসিনার এই কথায় জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের নিশ্চিত হয়ে যাবার কথা যে এটা ভারতের ষড়যন্ত্র যার সাথে শেখ হাসিনার সমর্থন রয়েছে।
পরবর্তীকালে গবেষক আভিনাশ পালিওয়াল তাঁর India’s Near East: A New History গ্রন্থে লিখেছেন ২০০৯ সালের পিলখানা সংকটের সময় ভারত সরকার বাংলাদেশে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল এবং প্রয়োজনে ঢাকায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলে আসামের জোরহাটে তাদের স্পেশাল ফোর্স রেডি ছিল।
জেনারেল মঈনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরো কিছু প্রাসংগিক প্রশ্ন এসে যায়।
প্রশ্ন ১:
২০০৯ এর বিডিআর হত্যায় ভারত যদি সংশ্লিষ্ট না ই থাকতো তাহলে হুট করে প্যারাট্রুপার পাঠানোর হুমকি কিভাবে আসে। একটা প্যারাট্রুপার ইউনিট ড্রপ করার প্রিপারেশন টাইমই লাগে কয়েক দিন। যদি তারা সে প্রিপারেশন নিয়ে থাকতো, তাহলে এই কিলিং এর সাথে তারা জড়িত। যদিও সেই ড্রপ হতো তাদের ভবলীলা সাংগ হবার রাস্তা যা পরে বিস্তারিত বলছি।
প্রশ্ন ২:
২০০৯ সালের বিডিআর হত্যা ঘটনাটি হাসিনার পতন সংক্রান্ত ছিলো না। শুধু একটা প্যারামিলিটারি ও পরবর্তীতে সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ঘটনা ছিলো। পরবর্তিতে সহকর্মীদের হাড়িয়ে সেনা সদস্যরা ভারত নিয়ন্ত্রিত সরকারের উপর চরম নাখোশ ছিলেন এবং সেই সেনা কন্টেস্টের মাঝে প্যারা ড্রপের আইডিয়া সুইসাইডালই হতো। জেনারেল মঈন একটা ব্লান্ট লাই করে নিজেকে বিচক্ষন সাজাতে চাচ্ছেন। আসলে তার একশন হলো দেশদ্রোহী, যদি তিনি প্যারাড্রপের ভয়েই সহকর্মীদের উদ্ধার কাজে বাধা দেন তবে তার বিচার হওয়া উচিত। শত্রুর ভয়ে তাইলে ত তিনি যুদ্ধও করবেন না। শেইম।
প্রশ্ন ৩:
কিন্তু ২০২৪ সালের হাসিনার ভারততোষী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘটনাটি আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছে। এর মাঝে ১৫ বছরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নতজানু ও প্রায় সকল জেনারেলদের নিয়ন্ত্রনে রেখেছে তারেক সিদ্দিকী ও র। এই অনুকূল পরিবেশেই যখন হাসিনার ক্ষমতা পড়ে যায় যায়, (১৮-১৯ জুলাই), তখনও ভারত তাদের ৫৪ বছরের ইনভেস্টেম্নট সুরক্ষার জন্য মিলিটারি ইন্টারভেনশন করে নাই। অনেক প্রস্ততির সময় পেয়েছিলো ভারত। তবুও সেটা করার সাহস নাই কারন জনতা তখন মাঠে। এমনকি ৩-৫ ই আগস্ট ছিলো ভারতের আরেকটা ডু অর ডাই পরিস্থিতি। কারন তখন বাংলাদেশ আর্মী জনতার বিরুদ্ধে গুলি চালাবেনা এই তথ্য দেশে ছড়িয়ে গিয়েছে, অর্থাৎ আর্মী ছাড়া হাসিনা আর টিকবেনা শিওর৷ অর্থাৎ ভারতের ৫৪ বছরের উপস্থিতি, নিয়ন্ত্রনের পতন হতে যাচ্ছে। সে সময়ও ভারতের একটা মোক্ষম মিলিটারি ইন্টারভেনশনের ডেস্পারেট সময় ছিলো যা তারা করার সাহস দেখায় নি। তাহলে ২০০৯ সালের হুমকি কেবলই জুজুর ভয়। ২০২৪ এ ভারতের চেয়ে চেয়ে দেখার অন্যতম কারন : বাংলাদেশের সেনা-জনতা ঐক্য। আমার ধারনা, এই ঐক্য বজায় থাকলে ভারত কখনই এ দেশে শান্তিকালীন সময়ে কোন সামরিক পদক্ষেপের চিন্তাও করবে না। যুদ্ধ হলে সেটা আলাদা ব্যাপার। কিন্তু প্যারা পাঠানোর প্রচার একটা চীপ প্রপাগান্ডা ও জুজুর ভয়।
প্রশ্ন ৪:
ভারত এই জুজুর ভয় কি ২০২৪ এর সেনা বাহিনী প্রধানকেও দিয়েছিলেন? কারন তিনি দেশ উদ্ধারে যা যা করতে পারতেন, ক্রিমিনালদের আটকের জন্য যা যা করতে পারতেন, ভারতের এজেন্ট ও দোসরদের গ্রেফতারে যা যা করতে পারতেন, তার অনেক কিছুই করেন নাই, বা বিরত ছিলেন।
প্রশ্ন ৫:
এই সেনাবাহিনীর সর্বনিকৃষ্ট বেঈমান পলাতক জেনারেল মঈন যে মাঝে মাঝে ভারতের বয়ান প্রচার এর মাধ্যমে প্রপাগান্ডা (প্যারাট্রুপার থিওরী) করে যাচ্ছে, ভাব চক্করে মনে হচ্ছে সে কি এখনো র এর কাছ থেকে স্যালারী নিচ্ছে??
এবার আসি মূল আলাপে। চলুন আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বের কিছু এমন প্যারা অপারেশনের বিষয়ে জানি।
আপনারা সবাই অবগত আছেন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম প্যারা ড্রপ হয় মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে।এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর 2nd Battalion, The Parachute Regiment (2 PARA) অংশগ্রহণ করে। তখন ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কুলবন্ত সিং পান্নু।
এই অভিযান শুরুর আগে থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরখাস্ত ল্যান্স নায়েক মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী এবং তাঁর বাহিনী আগে থেকেই এলাকায় পাকিস্তানি সেনা মুক্ত কর্ রাখে এবং প্যারাট্রুপারদের জন্য স্থানীয় সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করেছিল।
সেই প্যারাড্রপ হয় দিনের বেলা দুপুর ২.৩০ থেকে ৩ টার মধ্যে; এই দিনে দুপুরে যখন শত্রুমুক্ত এলাকায় ড্রপের সময় এক ব্যাটালিয়ান সৈনের মধ্যে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কুলবন্ত সিং পান্নু সহ ১০ জন সরাসরি পুকুরে ল্যান্ড করে। বাকি অর্ধ শতক সৈন্যরা বিভিন্ন বড় গাছ টিনের চাল বাষঁঝারে পরে আহত হয়। ডিসেম্বরের শীতে তাদের অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। তবে কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী পুঙ্গলি সেতু দখলে বড় ভূমিকা রেখেছে এবং ভারতের প্যারাট্রপারদের একটি অংশের সহায়তায় রাত ৮টায় সেতুটি শত্রুমুক্ত করে।
এবার আসি ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনী (IPKF)-এর ১৯৮৭ সালের “Operation Pawan” (জাফনা অভিযান)। অক্টোবর ১৯৮৭ সালে শ্রীলংকার জাফানায় একই ভাবে এক ব্যাটালিয়ান প্যারাড্রপ হয় এবং পুরো ব্যাটালিয়ান গায়েব হয়ে যায়। তবে তাদে অফিসিয়াল ভার্সনে সেই দিন ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনী (IPKF)-এর ২১৪ জন সৈন্য নিহত হন, প্রায় ৭০০ জন আহত এবং ৩৬ জন নিখোঁজ হয়।
তবে “Operation Pawan” ১৯৮৭–১৯৯০ সালে শ্রীলঙ্কায় IPKF-এর সেই পুরো অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সরকারি হিসাব অনুযায়ী:
* ১,১৫৫ থেকে ১,২০০ জনের মধ্যে (সর্বাধিক উদ্ধৃত সংখ্যা ১,১৭১ জন) ভারতীয় সেনা নিহত হন।
* প্রায় ৩,০০০–৩,৫০০ জন আহত হন।
এখন চিন্তা করে দেখুন যদি সেদিন কালিহাতীতে মুক্তিযোদ্ধারা এলাকা শত্রুমুক্ত করে না রাখতো এবং স্হানীয় জনগণ বন্ধুভাবাপন্ন না হতো তাহলে কি হতো? জী ঠিক বলেছেন যা শ্রীলংকার জাফানায় হয়েছিল ঠিক তাই হতো।
এবার আসি যদি পিলখানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করার পর ভারতের স্পেশাল ফোর্স ঢাকায় ড্রপ করলো?
-তবে কি হতো?
প্রথমত আমি নিজে ঢাকা শহরের ৫০+ প্লাস জাম্প দিয়েছি এডভান্সড প্যারাসুট (যে প্যারাসুট যথেস্ট ম্যানুয়েভার করা যায়) দিয়ে এবং তার পরও প্যারাট্রুপারদের ড্রপজোনের বাইরে পরতে দেখেছি। বিল্ডিং এর সাথে বাড়ি খেয়ে হাত পা ভাংগা থেকে শুরু করে টিনের চাল এবং বাড়ীর ছাদে পড়তে দেখেছি।
এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে এবং আর্মি স্টেডিয়ামে জাম্প করা। আকাশ থেকে স্টেডিয়াম দেখা যায় খুব ছোট আর স্টেডিয়ামের বাইরে শুধু আনইভেন উচ্চতার বিল্ডিং আর হাই টেনশন ইলেকট্রিক ওয়ার। আলহামদুলিল্লাহ আমি সম্ভবত একজন রেয়ার প্যারাট্রুপার যার এই লাইনে কোন হাত পা ভাংগার রেকর্ড নেই।
আমরা ঢাকা শহরে যত জাম্প দিয়েছি সবই ছিল প্রদর্শনী জাম্প। ভারতীয় প্যারাট্রুপারগন যদি সেদিন ঢাকায় ড্রপ করতেন তবে সেটা হতো বেসিক কম্বেট জাম্প। আইডিয়ালি কম্বেট জাম্প হয় ৩০০০ ফিট উচ্চতা থেকে। ধরে নিলাম আরবান এরিয়া হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০০০ ফিট থেকে জাম্প হতো। বেসিক প্যারাসুট সাথে অস্ত্র সরন্জাম সহ ৪০-৫০ কেজি ওজন নিয়ে ভূমিতে অবতরণ করতে লাগবে ৩-৪ মিনিট।
ধরে নিলাম, তারা ঢাকায় অবতরণ করল। ঢাকার মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শহরের আউটস্কার্টের একটি বড় অংশজুড়েই রয়েছে বিভিন্ন জলাধার, নদী, নালা, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাভূমি।
এখন যদি ধরে নেওয়া হয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন পিলখানাকে কেন্দ্র করে প্যারাড্রপ করল, তাহলে বাস্তব পরিস্থিতিতে প্যারাট্রুপারদের একটি বড় অংশ ঢাকার বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। একজন প্যারাট্রুপারের সঙ্গে অন্যজনের আনুমানিক ৫০–১০০ গজ পর্যন্ত দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভূমিতে অবতরণের পর একজন প্যারাট্রুপারের অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, নিজেকে সংগঠিত করা এবং কার্যকরভাবে যুদ্ধ বা অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হতে গড়ে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে।
অর্থাৎ, পিলখানাকে কেন্দ্র করে একটি ব্যাটালিয়নকে প্যারাড্রপ করানো মানেই তারা একটি সুসংগঠিত ব্যাটালিয়ন হিসেবে একসঙ্গে মাটিতে নেমে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা অর্জন করবে—বিষয়টি বাস্তবে এতটা সরল নয়। বরং অবতরণের পর তাদের ছড়িয়ে পড়া, পুনরায় সংগঠিত হওয়া এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করাই হবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ভাইসব, আমরা নিজের চোখে দেখেছি—আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে বিএসএফের বিরুদ্ধে কাস্তে-লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে যায়। তাহলে আপনার কী মনে হয়, ঢাকার সাধারণ মানুষ যদি দেখে ভারতের সেনাবাহিনী প্যারাড্রপ করে ঢাকায় নামছে, তারা কি চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখবে?
বাস্তবতা হলো, ভারতীয় সেনারা ভূমিতে পা রাখার আগেই তাদের উপস্থিতির খবর ঢাকার মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এরপর যে যার হাতে যা পাবে—লাঠি, শোটা, দা, খন্তি, কুড়াল—তা নিয়েই প্রতিরোধে নেমে পড়বে।
ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপারেশনে নামার আগেই সাধারণ মানুষের প্রতিরোধে পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যেতে পারে।
এক অর্থে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মাঠে নামার আগেই ঢাকার জনতা আরেকটি “Operation Pawan”-এর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দিতে পারে!
কারণ যুদ্ধ শুধু অস্ত্র ও সৈন্য দিয়ে হয় না—জনগণের প্রতিরোধের শক্তিও অনেক সময় যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
আচ্ছা আমার এই বিশ্লেষণটির যুক্তি গুলোকি ভারতের জেনারেলরা বোঝেন না? তারা ভাল করেই এটা বোঝেন। তারা এটাও বোঝেন ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে কোন ফুল স্কেল যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তবে তাদের সেভেন সিস্টার ভেংগে যাবে।
এটা জেনারেল মঈন ও ভালো করেই বুঝেছিলেন! কিন্তু হয় তিনি একজন কাপুরুষ বা নিজেই ভারতের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
আজ অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জামিল ডি হাসান স্যারের একটা পোস্ট দেখলাম, তিনি লিখেছেনঃ
“মাঝে মাঝে RAW নিয়ে বই প্রকাশিত হয়। লেখেন RAWএর বড় বড় high officials.এগুলো purpose oriented.থাকে myth তৈরি করে জুজুর ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা ।”
একজেক্টলি! তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের জুজুর ভয় দেখানো। তারা আমাদের বাহিনীতে তাঁদের স্বশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের পোস্টিং দিয়ে রেখেছিল। আমাদের প্রশিক্ষণ এবং মোটিভেশন তাদের মুখাপেক্ষী করার চেষ্টা করছিল। আগে আমাদের চারজন জেনারেল ভারতে পালিয়েছিল এর সাথে যুক্ত হয়েছে লেঃ জেনারেল মতিউর। আর তাদের সবার পালিয়ে যাওয়ার সহায়ক জেনারেল ওয়াকারকে আমরা এখনো সেনাপ্রধানের পদে রেখেছি!
দেশের ৯৯.৯৯% মানুষ ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত চাইলেও সেই .০১% নেতা নেতৃবর্গের কারনে এটা সম্ভব হচ্ছে না।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।
