Image description

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

"হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।"

হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক - সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার - প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

শীর্ষনিউজ/