স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত কখনো দেশের ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত ভুলে গেছে তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। কাজেই, তারা কখনো ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেতে হলে জামায়াত-এনসিপিকে অন্তত ১০ বছর বিরোধী দলে থাকতে হবে।’
শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাশেদ বলেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের সামনে এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে আইনি বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তারা সহজ করে দিচ্ছে।’
জামায়াত-এনসিপির এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার অপচেষ্টা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল; তাদের আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
বিরোধী দলগুলোকে হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘সরকারকে চাপে রাখতে একের পর এক হঠকারী কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। জামায়াত ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে মারার অপচেষ্টা করবেন না। বিএনপি মরলে জামায়াত ও এনসিপিকেও মরতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ ফিরলে দমন-পীড়ন যেভাবে বাড়বে, তা কল্পনাও করা যাবে না।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাশেদ জানান, বিএনপি প্রার্থী দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিএনপির স্থায়ী কমিটি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর ওপর অর্পণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তার মেধা ও বিচক্ষণতা দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রার্থী দিচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং তাদের প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন প্রমুখ।