Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের কোনো ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ধরনের। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উৎপাদন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে। প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক কারখানা ও উৎপাদন স্থাপনা নির্মাণ করছে।

এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।

পত্রিকাটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সূত্রের বরাতে জানায়, ট্রাম্প হেগসেথকে বলেছিলেন যে তিনি ভেবেছিলেন গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।

এসব প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, যারা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক তথ্য ফাঁস করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হবে।

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও দাবি করে, অস্ত্রের এই ঘাটতির কারণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কিছু হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন, যদিও এর আগে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের খবরকে ভুয়া সংবাদ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তিনি ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হেগসেথের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেলও ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে বিরোধ এবং অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে সম্পূর্ণ মনগড়া বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দূরপাল্লার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।

সূত্র : ব্লুমবার্গ