২০২৪ সালের জুলাইয়ে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের ছোড়া বুলেট থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। কেউ বারান্দায় দাঁড়িয়ে, কেউ ছাদে গিয়ে আবার কেউ মায়ের কোলেই গুলিবিদ্ধ হন। এই গণ-অভ্যুত্থানে ঝরে যায় শতাধিক শিশুর প্রাণ। স্বজন হারানো পরিবারগুলো এখনো দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা খেলনা, আলমারিতে ঝুলে থাকা স্কুল ড্রেস, খাতার ভাঁজে রেখে দেয়া অসমাপ্ত- সবকিছুই প্রতিদিন নতুন করে মনে করিয়ে দেয় হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখগুলোর কথা।
শহীদ শিশুদের স্বজনেরা জানান, সন্তান হারানোর শোকের কোনো শেষ নেই। প্রতিটি সকাল শুরু হয় শূন্যতা নিয়ে, আর প্রতিটি রাত শেষ হয় অশ্রুতে। অনেক মা এখনো সন্তানের ব্যবহৃত জামাকাপড় গুছিয়ে রাখেন। সন্তানের কবরের পাশে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, সময় পেরিয়ে গেলেও অনেকের কাছে এখনো ন্যায়বিচারের পথ স্পষ্ট নয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভ্যুত্থানের সময় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। নিহতদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু। ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সে সময়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছিলেন, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে মোট ১০৫ জন শিশু মারা গেছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ১৩ জন নিহতের তথ্য প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি এক প্রতিবেদনে জানায়, যারা নিহত হয়েছেন তাদের ৭২ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।
নিহত ১ হাজার ১৩ জনের মধ্যে ৮১৬ জনের বয়স সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। ৮১৬ জনের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ১৩৬ জন, যা শতকরা ১৭ শতাংশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৬৮ জন পথশিশু। লিডো-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলি ও ছররা গুলির কারণে গুরুতর চোখের আঘাত পাওয়া ৫০৬ জনের মধ্যে অন্তত ৬০ জন শিশু ছিল। এদের মধ্যে ৯ বছর বয়সী এক পথশিশু চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।
২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে মারা যায় চার বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। সেদিন ঘুম থেকে উঠে বাসার অষ্টম তলার বারান্দায় দাঁড়ায় সে। এসময় আহাদ দাঁড়িয়ে ছিল তার বাবা-মায়ের মাঝে। হঠাৎ একটি গুলি এসে আহাদের ডান চোখে বিদ্ধ হলে ঢলে পড়ে মেঝেতে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আহাদ ছিল ছোট। শহীদ আহাদের বাবা আবুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, এই কষ্ট কাউকে বুঝানো যায় না। যারা সন্তান হারিয়েছে তারা বুঝবে এই কষ্টটা। এখনো মনে হয় আহাদ চারপাশে ঘুরছে-খেলছে। ছেলেটি সবসময় প্রাণচাঞ্চল্যতায় ঘর মাতিয়ে রাখতো। আমার সন্তান দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। এই দেশটাকে পুনরায় স্বাধীন করেছে সেটি যেন বৃথা না যায়। আমরা শান্তি চাই।
গণ-অভ্যুত্থানে শুধু আহাদ নয়, শতাধিকের বেশি শিশুর শরীরে বিদ্ধ হয়েছে প্রাণঘাতী বুলেট। বাসার মধ্যেও নিরাপদ ছিল না কোমলমতি প্রাণগুলো। বুলেটের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অনেকে। এই ছোট্ট শিশুদের নানাবিধ স্মৃতি এখনো কাঁদাচ্ছে বাবা-মাকে। প্রাণচাঞ্চল্যতায় আর ঘর মাতিয়ে রাখছে না এই বীরেরা। তারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে দেশটাকে পুনরায় স্বাধীন করেছে। শহীদ শিশুদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, কেউ দোকানকর্মী, কেউ পোশাক কারখানার কর্মী, কেউ নির্মাণ শ্রমিক, কেউ হকার, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউ পথশিশু ছিলেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গণ-অভ্যুত্থানে ১১ জন নারী শহীদ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেয়েশিশু চারজন। তারা হলো- রিয়া গোপ (৬), নাঈমা সুলতানা (১৫), রিতা আক্তার (১৭) ও নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭)।
রিয়া গোপ (৬)। ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই বিকালে নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকায় বাসার ছাদে খেলার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল শিশুটি। পাঁচদিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থেকে মারা যায়। রিয়া গোপের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছিল। শিশুটির বাবা দীপক কুমার গোপ বলেন, আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। আমাদের একমাত্র সন্তান ছিল রিয়া। তাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। বিয়ের দীর্ঘদিন পর আমাদের মেয়ের জন্ম হয়। সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
গণ-অভ্যুত্থানে নিহত রিতা আক্তার (১৭) ছিলেন মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি ৫ই আগস্ট মিরপুর ২ নম্বর ওভারব্রিজের নিচে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। রিতার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে বাবা আশফাক আলী ঢাকায় এসে রিকশা চালাতেন এবং মা রেহানা বেগম বাসাবাড়িতে কাজ করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন।
আন্দোলনের সময় ১৯শে জুলাই উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়ির নিচে পুলিশ ছাত্র-জনতাকে ধাওয়া দেয়। এসময় চারতলা ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে কাপড় আনতে গিয়েছিল নাঈমা সুলতানা (১৫)। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি নাঈমার মাথার বাঁ পাশে লেগে মাথার মগজ বেরিয়ে যায়। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা। শহীদ নাঈমা সুলতানার মা আইনুন নাহার বলেন, সেদিনের কথা মনে পড়লে বুকের ভেতরটা ভেঙে যায়। কীভাবে গুলিতে আমার মেয়ের মাথা ভেঙেচুরে গিয়েছিল সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভাসতে থাকে। তার সব স্মৃতি মনে পড়লে শরীর কাঁপে।
৫ই আগস্ট সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭)। তিনি এ বছরেই গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার সাহাজউদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন। নাফিসা ৪.২৫ পেয়ে পাস করেন। কিন্তু এক ঘাতক বুলেট কেড়ে নিলো নাফিসার জীবন ও বাবা-মায়ের স্বপ্ন। নাফিসার বাবা আবুল হোসেন বলেন, এত শহীদের জীবন কি বৃথা যাবে। সন্তান ছাড়া পিতা-মাতা ভালো থাকতে পারে না। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সুন্দর একটা দেশ আমরা চেয়েছিলাম সেটি ভালো নেই। আমরা আশা করেছিলাম যে সরকার আসুক না কেন কোন বৈষম্য থাকবে না, সবাই মিলেমিশে যেন থাকে। প্রতিদিন ভাবি আমার মেয়েকে। যারা জীবন দিয়েছে তাদের হত্যার বিচারটা যেন সঠিক করে। যারা আহত হয়েছে তাদের সুচিকিৎসা করা জরুরি।
৪ঠা আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ আব্দুল্লাহ আল মাহিন (১৬) ঢাকার উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়। শহীদ মাহিনের বাবা জামিল হোসেন বলেন, আগের মতো এখন আর খোঁজখবর রাখছে না কেউ। একমাত্র সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে দিন কাটছে আমাদের। শূন্যতা আর হাহাকার নিয়ে বেঁচে আছি। আমার ঘরে এখন আর আলো নেই।
৫ই আগস্ট আন্দোলনে যোগ দিতে তার বন্ধুর সঙ্গে চানখাঁরপুলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মেহেদী হাসান জুনায়েদ (১৪)। তার মাথায় দুইটি গুলি লাগে। শহীদ মেহেদী হাসানের মা সোনিয়া জামান বলেন, আমাদের সন্তান ছিল রত্ন। আমার মেহেদী মেধাবী এবং সাহসী ছিল। আমার সন্তানের কোনো দোষ ছিল না। আমি গর্বিত যে আমার ছেলে ন্যায়ের জন্য রাজপথে দাঁড়িয়েছিল।
মো. শাহরিয়ার হাসান আলভী। সবেমাত্র ১৫ তে পা দিয়েছিল। সে নবম শ্রেণিতে পড়তো। তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা-মাও স্বপ্ন দেখতেন। ৪ঠা আগস্ট বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যায় আলভী। মিরপুর-১০ নম্বরে গুলিবিদ্ধ হয় সে। আলভীর বাবা মো. আবুল হাসান বলেন, আমরা সরকারের কাছে একটা জিনিস আশা করেছিলাম, আমাদের দুই হাজার সন্তানের রক্তের বিনিময়ে নতুন দেশ হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের সন্তানদের হত্যার প্রকৃত বিচার।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব হাসান (১০)। ১৯শে জুলাই বিকালের দিকে মোহাম্মদপুর ক্লাবের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় সে। মাথায় গুলি লেগে পেছন দিক থেকে বের হয়ে যায়। শহীদ রাকিব হাসানের বাবা আবুল খায়ের বলেন, এখনো আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। এই মনে হয় আমার সন্তান ফিরে এসে বাবা বলে ডাকবে।
আল-আমিন ইসলাম শুভ (১৬)। ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর ধানমণ্ডি-৩ নম্বর রোডে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি ডান চোখের উপরে লেগে মাথায় বিদ্ধ হয়। ওইদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। শুভ একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।
গোলাম নাফিজ (১৭)। তার ইচ্ছা ছিল পাইলট হওয়ার। ৪ঠা জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সংষর্ষে নিহত হন তিনি।
৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরে উত্তরা পূর্ব থানা-পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে ছিল জাবির ইব্রাহিম (৬)। বাবা-মায়ের সঙ্গে রাস্তায় একপাশে দাঁড়িয়ে বিজয় মিছিল দেখছিল সে। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয় ছোট্ট জাবির। শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বলেন, প্রতিটি সেকেন্ডে ওর স্মৃতি মনে পড়ে। আমি শুধু জাবির ইব্রাহিমের মা নই, প্রতিটি বাচ্চার মা। আমি একজন মা হয়ে প্রতিটি বাচ্চার হত্যার বিচার চাই।
মারুফ মিয়া (১৫)। ৫ই আগস্ট টাঙ্গাইলে নিহত হয় সে। শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বলেন, জীবনের চেয়ে বড় আর কিছু নয়। সন্তান সন্তানই, মনের কষ্টটা সারা জীবন থাকবে। হাজার কান্না করেও আমার সন্তানকে ফিরে পাবো না। আমাদের সন্তানদের কবর জিয়ারত এবং তাদের যেন সবাই মনে রাখে।
জুলকার নাইন (১৭)। ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় ৫ই আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। তার বাবা মো. আবদুল হাই আল হাদী বলেন,
আমার সন্তান যে বৈষম্যের জন্য জীবন দিয়েছে কিন্তু সেই বৈষম্য থেকেই গেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছে। ওর মা অনেক বেশি ভেঙে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সে স্বাভাবিক হয়নি। আমার সন্তানসহ যারা এই আন্দোলন করেছে তাদের আকাঙ্ক্ষাটা অনেক বড় ছিল, কিন্তু তার ন্যূনতম কিছুই দেখতে পাই না।
গোলাম রাব্বানী (১৭)। তার বাবা সাঈদুল ইসলাম বলেন, সন্তান হারানোর পর আমি ও আমার স্ত্রী বেশি ভালো নেই, দু’জনেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এক বছর ধরে আমাদের খোঁজখবর কম নিচ্ছে। আমরা কুড়িগ্রামে থাকি। রাব্বানী ঢাকার রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। ছেলে এখানের দাখিল মাদ্রাসায় পড়তো। মাদ্রাসা কিছুদিনের জন্য বন্ধ হওয়ার কারণে সে ঢাকায় যায় কাজ করতে। ঢাকায় যাওয়ার পর সে মাত্র দু’দিন কাজ করতে পেরেছিল। এর পরদিন এই ঘটনা ঘটে। ২০শে জুলাই মারা গেছে। আমরা সন্তানদের হত্যার বিচার চাই।
তাহমিদ ভূঁইয়া (১৫)। ১৮ই জুলাই বিকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিতে নরসিংদীতে নিহত হন। গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল তাহমিদের বুক।
ইফাত হাসান খোন্দকার (১৬)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২০শে জুলাই যাত্রাবাড়ীতে সংঘর্ষে নিহত হন। তিনি দনিয়া এলাকার এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
ফারহান ফাইয়াজ (১৭)। ১৮ই জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে গুলিতে শহীদ হন। সে একাদশ শেণিতে পড়তো। আলিফ আহমেদ সিয়াম (১৫)। ছিলেন ডেইরি ফার্ম হাইস্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত দিন ৫ই আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় সাভার থানার বাসস্ট্যান্ড ফুটওভার ব্রিজের নিচে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।