দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে হামলা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
এমন দাবির প্রেক্ষিতে আগামীকাল বুধবার (৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনানে সকাল ৯টায় ছাত্র গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করে শিবির। গণভোটের আলোকে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সকল গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এ গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা আজ ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করে দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আবাসন সংকট নিরসন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে জকসুর নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এ ঘটনায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীরা রোগী ও স্বজনদেরও মারধর এবং মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করেন শিবির সভাপতি।
ঢাকা কলেজের ঘটনায় নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের জন্য দোয়া ও আহতদের সম্মাননা উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিউমার্কেট ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় পথচারীদের ওপরও হামলার অভিযোগ তোলেন।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বহিরাগতদের নিয়ে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে হলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলা, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও করেন ছাত্রশিবির সভাপতি। তার দাবি, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই অনেক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা হামলাকারীদের আরও উৎসাহিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নূরুল বলেন, বিগত কয়েক মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সভাপতি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো-
১. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার।
২. ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার।
৩. পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
৪. আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।
৫. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনে হল দখল, গণরুম সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রশিবির।
ওই কর্মসূচি থেকে হামলার বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হবে বলে জানান নূরুল ইসলাম।