Image description

দেশে আবারো ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং 
রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক শ্লথগতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারে ডলারের দাম বাড়ছে। দেড় মাস ধরে ব্যাংকগুলোকে ক্রমেই বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। মে মাসে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৪৫ পয়সা। এখন তা বেড়ে প্রায় ১২৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে ডলারের দর বেঁধে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি ব্যাংকগুলো ১২৩ টাকা ৮০-৯০ পয়সা দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিকভাবে নির্ধারিত দরের কাছাকাছি। কয়েক মাস আগেও একই ডলার প্রায় এক টাকা কম দামে কেনাবেচা হতো। তারা জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারি পর্যায়ে এলসি খোলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব জ্বালানি আমদানির জন্য অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হওয়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

এ ছাড়া গত দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার কমেছে। রেমিট্যান্স এলেও প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি হয়নি। অন্যদিকে, রপ্তানি আয়ও কমেছে, কিন্তু আমদানি ব্যয় মোটামুটি আগের পর্যায়েই রয়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ কমলেও চাহিদা না কমায় বিনিময় হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বেশি ডলার ব্যয় করছে। এ ছাড়া সার আমদানির জন্য আগের তুলনায় বেশি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে চাহিদা বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতে ব্যাংকগুলো প্রায় ১২৩ টাকায় ডলার কিনতো। এরপর ১২ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৪০-৫০ পয়সায়। বর্তমানে কিছু ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯০-৯৫ পয়সা পর্যন্ত দরে ডলার কিনছে।

কয়েক মাস টানা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও জুন ও জুলাইয়ে প্রবাহ কিছুটা কমেছে। যদিও বর্তমানে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে, তবুও চলমান চাপের মধ্যে রিজার্ভ ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডলারের দাম বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ করে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০-৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে জ্বালানি আমদানিতে ডলারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও জুন মাসে তা কমে ২.৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এ ছাড়া জুলাই মাসে আসে ২.৮৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় এবং বাজার থেকে ডলার কেনায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ সম্ভব। তবে ডলারের ওপর বর্তমান চাপের মধ্যে রিজার্ভ কতোটা ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।