সোনার গয়না ও টাকা চুরি করতেই রাজধানীর দক্ষিণখানে বাসার গ্রিল কেটে নারী চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুকে হত্যা করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বাসায় পাওয়া এক জোড়া জুতার ছাপে সেই ধারণা গেল পাল্টে। উল্টো সামনে এলো হত্যায় স্বামী সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতা। এরই মধ্যে সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তে যুক্ত এক কর্মকর্তা বললেন, বাসার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পাওয়া যায়। তার সঙ্গে নিহত দাঁতের চিকিৎসকের বাসায় পাওয়া এক জোড়া জুতার ছাপের মিল খুঁজে পায় সিআইডির ক্রাইমসিন টিম। জানা যায়, ওই জুতা সোহেল রানার। তবে জানালার গ্রিলের বিপরীত পাশের ছাদে কোনো ধরনের জুতার বা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি। সেখান থেকেই সন্দেহ জোরালো হয়।
গ্রেপ্তারের পর গতকাল শনিবার সোহেল রানাকে হাজির করা হয়েছিল আদালতে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে বেলা ৩টার মধ্যে নিজের বাড়িতে হত্যার শিকার হন সারাহ রোকসানা পিনু। যে ঘরে তার মরদেহ পাওয়া গেছে সেটির একটি জানালার গ্রিল কাটা ছিল। জানালাটি লাগোয়া অন্য একটি ভবনের ছাদ। ঘটনাটি দিনের হলেও ওই সময় কেউ ছাদে দাঁড়িয়ে কাউকে জানালার গ্রিল কাটতে দেখেনি বা গ্রিল কাটার শব্দ পায়নি।
পুলিশ বলছে, নিহতের স্বামী সোহেল কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে স্ত্রীকে বিছানার চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু তিনি এ অবস্থায় তার স্ত্রীকে স্পর্শ করেননি কিংবা চিকিৎসা দেওয়ারও চেষ্টা করেননি। তাদের বাসায় দুটি আলমারি ছিল। একটি খোলা ও এলোমেলো অবস্থায় থাকলেও অন্য আলমারি সম্পূর্ণ বন্ধ ও অক্ষত অবস্থায় ছিল। পিনুর শয়নকক্ষের আশপাশে চারটি স্বর্ণ রাখার খোলা বক্স পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু শয়নকক্ষের কাঠের আলমারিতে থাকা একটি ব্যাগে ২০-২৫টি স্বর্ণের খালি বক্স জিপার লাগানো অবস্থায় দেখা যায়, যা থেকে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে ধরে নেয় পুলিশ।
নিহতের বোন ও মামলার বাদী সারাহ সুলতানা পলির বলছিলেন, ‘সোহেল রানার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পিনু আমাদের ফোন করে কান্না করত। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে সংসারে পড়ে ছিল। আগেই পিনু জানিয়েছিল, সোহেল তাকে মেরে ফেলবে। বোনের সেই আশঙ্কা এখন সত্য হলো। আমার বোন হত্যায় সোহেলের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’