Image description

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানার ডাম্পিং ইয়ার্ডে বছরের পর বছর পড়ে থেকে কঙ্কালসার হচ্ছে জব্দ যানবাহন। একসময় চলাচল করা দামি গাড়িগুলো মরচে ধরে পরিণত হয়েছে লোহার স্তূপে। পুলিশের ভাষ্য, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জব্দ যানবাহন মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। ফলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে রোদবৃষ্টিতে গাড়ির বডি, ইঞ্জিন, টায়ার ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। চুরি হয়ে যায় ব্যাটারি, টায়ার, ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশসহ মূল্যবান সরঞ্জাম।

রাজধানীর ৫০টি থানার প্রায় একই চিত্র। অপরাধ ও ট্রাফিক মামলায় জব্দ শত শত গাড়ি স্থানসংকটের কারণে অস্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডে ফেলে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে শাহবাগ, বসিলা, পোস্তগোলা ও উত্তরা পুলিশ লাইনসে অস্থায়ীভাবে চারটি ডাম্পিং স্টেশন পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব স্থানে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কিংবা আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা।

শাহবাগ ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে কাদাপানি, অগোছালো পরিবেশ ও নিরাপত্তা দেয়ালের অভাব। জনবলসংকট ও অব্যবস্থাপনার সুযোগে রাতের আঁধারে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনি জটিলতার কারণে অনেক মালিকই গাড়ি ফেরত নেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আইনে নিলামের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

পুলিশ সূত্র জানান, স্থায়ী চারটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সংরক্ষণসংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা, কার্যকর নিরাপত্তা এবং সময়মতো নিলাম নিশ্চিত করা না গেলে ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কোটি কোটি টাকার সম্পদ এভাবেই ধীরে ধীরে লোহার কঙ্কালে পরিণত হতে থাকবে।