কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিক্ষোভ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এক সদস্যসহ এনসিপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ এনসিপির নেতাকর্মীদের। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে উপজেলা শহরের থানা রোডে জামে মসজিদের পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে গতকাল বুধবার বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আযান আহমেদ শাওনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছাত্রশক্তি নেতা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। জুলাইয়ের শেষ দিকে এই বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ এনসিপির নেতাকর্মীদের
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উপজেলা সদস্যসচিব আযান আহমেদ শাওনের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছিল। বিক্ষোভ মিছিলের খবরে উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও পাইপ নিয়ে আগে থেকে থানা রোডের পথ রোধ করে অপেক্ষা করতে থাকেন। মিছিলটি তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে তারা একযোগে মিছিলের ওপর হামলা চালান। হামলায় এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা তাদের মারপিট করেন। হামলায় পুলিশের এক ডিএসবি সদস্যসহ এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
হামলায় জেলা যুবশক্তির সিনিয়র সেক্রেটারি তাওহীদ হাসান শান্ত, ফুলবাড়ী উপজেলার সিনিয়র সদস্যসচিব রাজু, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, জেলা সদস্যসচিব সাদিকুর রহমান, নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির সভাপতি রবিউল ইসলাম, সহসভাপতি আতিকুর রহমান ও ছাত্রনেতা মেহেদী হাসানসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত চার জনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলায় পুলিশের ডিএসবি সদস্যকেও পেটাতে দেখা গেছে। তার নাম ফেরদৌস। তিনি হাতে আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই হামলার একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও উপজেলার বাসিন্দারা ভিডিও দেখে হামলায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছেন।
হামলায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠুন চন্দ্র, ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মহেশ্বর রায় শুভ, সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আল আমিন হক নিরব, যুবদল নেতা রফিকুল, সিরাজুল ইসলাম সেরা, শ্রমিক দলের নয়ন মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা
তাদের নেতৃত্বে লাঠিসোঁটা ও পাইপ নিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল ইসলাম রেজা দাবি করেছেন, এনসিপি নেতাকর্মীরা তাদের এক কর্মীর ওপর হামলা করে। এরপর তারা (এনসিপি) মিছিল নিয়ে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের চার জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রেজা। তবে তিনি কথা শেষ না করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদল-যুবদল হামলা করেছে। এতে অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন। আমরা তাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। এ নিয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান নাঈম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপি ও এনসিপির জেলা নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’