ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের রাজনীতি এখন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে ছাত্রলীগ গুন্ডা বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল, বর্তমানে ছাত্রদল ও যুবদল ঠিক একইরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এশিয়া পোস্টের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
শিবির সভাপতি বলেন, হবিগঞ্জে যা ঘটেছে, এর নিন্দার ভাষা আমাদের জানা নেই। একটি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদল ক্যাডাররা যেভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র শক্তির সংগঠক আলিফের চোখ হারানোর ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এনসিপির নেতাদের থানায় যাওয়া ঠেকাতে আওয়ামী স্টাইলে রাস্তায় বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসান অনির নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে নিরপরাধ ও নিরস্ত্র এনসিপি এবং ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই হামলায় প্রায় ১৫ জন আহত হন। হামলায় আলিফ নামে এক কর্মীর এক চোখের আলো চিরতরে হারিয়ে গেছে, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে এই ধরনের সন্ত্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্রদল যে ছাত্রলীগের একদম ‘জেরক্স কপি’ (ফটোকপি) এবং সেই সন্ত্রাসী লিগাসি বহন করছে, তা তারা তাদের আচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে।
এনসিপির হমলার ঘটনার সঙ্গে চট্টগ্রামে শিবিরকর্মী এবং গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যার ঘটনাকে যুক্ত করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও সিটি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় এক ভাইয়ের পায়ের পেছনের রগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ সাইফুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।
তাদের নিজেদের কোন্দল ও সহিংসতায় সাধারণ মানুষসহ প্রায় তিনশর বেশি কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মানুষকে পাথর মেরে হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিবির সভাপতি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই সব জায়গা লুটেপুটে খাওয়ার জন্য একদল ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি বা নিহতের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে দেশ ভালো নেই।
তার মতে, ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে জুলাই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে কিছু নামকাওয়াস্তে প্রোগ্রাম করলেও অন্তরে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না।
মূল ইস্যুগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে রাষ্ট্রীয় ও সংবাদমাধ্যমগুলোকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।