পাবনায় মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ছাত্রদল নেতা মো. রাহাতকে (১৯) কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে আহত ছাত্রদল নেতার বাবা নজরুল ব্যাপারী বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ১৫ জনের নামে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সাঁথিয়া পৌরসভার ছেঁচানিয়া আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে স্থানীয় ইমামকে বাদ দিয়ে একজন সংসদ সদস্যকে দিয়ে জুমার নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। এতে মসজিদ কমিটি ও সাধারণ মুসল্লিরা আপত্তি জানালে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাজারে সমবেত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশী পাহারায় জুমার নামাজ আদায় সম্পন্ন হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, জুমার নামাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছাত্রদল নেতা রাহাত বাড়ি ফিরছিলেন। সাঁথিয়া পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় রাজনৈতিক গালিগালাজের একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে সাদ্দাম ফকিরের নির্দেশে মুজাহিদ ফকির তাকে চেপে ধরেন এবং পিয়াস নামে এক যুবক হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার পিঠে কোপ দেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
মামলার নামীয় আসামিরা হলেন সাঁথিয়া পৌর যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সাদ্দাম ফকির, উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, পৌর এনসিপির সদস্য সচিব মুজাহিদ ফকিরসহ জামায়াত-শিবির ও এনসিপির আরও নেতাকর্মী। আহত রাহাত সাঁথিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।
আহত রাহাতের বাবা নজরুল ব্যাপারী বলেছেন, ‘আমার ছেলেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াত, শিবির ও এনসিপির সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে। ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমি এই হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।’
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বললেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে রাতেই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’