Image description

দেশে এনজিও, ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট এবং কমিউনিটিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান ধারাবাহিক বাড়ছে। উৎপাদন, মূল্য সংযোজন (জিভিএ) ও শ্রমব্যয় সূচকেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কিন্তু নেতৃত্বের পদে নারীর অংশগ্রহণ এখনো খুবই কম। চলতি মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, জরিপভুক্ত ৪৭৬ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২০টিতে প্রধান হিসেবে রয়েছেন নারী। বিপরীতে ৪৫৬ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন পুরুষ। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৪ দশমিক ২০ শতাংশ, যেখানে পুরুষের অংশ ৯৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। বিবিএসের ‘বাংলাদেশের পাঁচটি কৌশলগত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কেস স্টাডি’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ ট্রাস্ট বা ফাউন্ডেশনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ১৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমিউনিটিভিত্তিক এবং ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ সদস্যভিত্তিক সংগঠন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে মোট কর্মসংস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪০২ জন, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ হাজার ২২৭ জন। অর্থাৎ এক বছরে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৭৫ জন। চার প্রান্তিকেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কর্মসংস্থান ছিল ৭ হাজার ২৭৮ জন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে হয় ৭ হাজার ৩৫৩ জন, তৃতীয় প্রান্তিকে ৭ হাজার ৪১৯ জন এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৭ হাজার ৫৫৮ জনে পৌঁছায়। অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে কর্মসংস্থান ছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ২০৬, ৭ হাজার ১৩৩, ৭ হাজার ৩১০ ও ৭ হাজার ২৫৯ জন। দুই অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেষ প্রান্তিকে কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে শ্রমব্যয়ও। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে মোট কর্মসংস্থান ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ২ মিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৩৩০ দশমিক ৭২ মিলিয়ন। চার প্রান্তিকের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে চতুর্থ প্রান্তিকে, ৩৬৩ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন টাকা। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৩৮৮ দশমিক ৪১, ৩৪০ দশমিক ৩ ও ৩৪৬ দশমিক ৭০ মিলিয়ন টাকা।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আউটপুট দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৯৯২ দশমিক ২৩ মিলিয়ন। একই সময়ে মোট মূল্য সংযোজন (জিভিএ) বেড়ে ১ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৫২৮ দশমিক ২৭ মিলিয়ন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চার প্রান্তিকেই জিভিএ ৩৮২ থেকে ৪০৭ মিলিয়ন টাকার মধ্যে ছিল, যার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হয়েছে চতুর্থ প্রান্তিকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ খাতে শ্রমব্যয়ের অংশ অত্যন্ত বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শ্রমব্যয় মোট মূল্য সংযোজনের ৮৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশের চেয়ে বেশি। এটি ইঙ্গিত করে যে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত জনবলনির্ভর।