Image description

সরকারের ঘোষিত বিশেষ অভিযানের তিন মাসেও লাগাম টানা যায়নি মাদক কারবারে। উল্টো যত সময় যাচ্ছে ততই বাড়ছে মাদকের স্রোত। আগের মতোই পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে দেদার বিক্রি হচ্ছে সর্বনাশা ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে সব ধরনের মাদক। ঢাকায় হোম সার্ভিসের পাশাপাশি সমাজমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, কুরিয়ার সার্ভিস ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হালনাগাদ এক গোপন তালিকায় মহানগরীর ৫০ থানা এলাকার ৩৬৩  মাদকসম্রাটের নাম উঠে এসেছে। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছে। পুলিশ বলছে, মাদকের এই কারবারিরা এখন রাজধানীতে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নেটওয়ার্কের জাল এখন সারা দেশে। মাদক কারবারিদের শক্তিশালী এই নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতেই মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। শিগগিরই সমন্বিত অভিযান শুরু হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, দেশের তিন করিডর দিয়ে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সেগুলো হলো, ভারত সীমান্তের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল এবং মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। পশ্চিমাঞ্চলীয় করিডরের প্রবেশপথগুলো সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী জেলায়। উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত করিডরে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন পয়েন্ট রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় করিডর, বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে মূলত ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের চোরাচালান আসে। আর এসব অবৈধ মাদকের প্রধান গন্তব্য ঢাকা। ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আর ঢাকার মাদক কারবারিরা খুবই তৎপর।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অভিযানে মাঠপর্যায়ের বিক্রেতা, বাহক ও ক্রেতাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মূল পৃষ্ঠপোষকরা আইনের আওতায় আসছে না। মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার রহস্য লুকিয়ে আছে এখানেই। অনেক গডফাদারের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাগবাঁটোয়ারার সম্পর্ক। ফলে অভিযানের আগেই তথ্য পাচ্ছে শীর্ষ কারবারিরা। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে শীর্ষ ওই মাদক সম্রাটদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ ওসমান গনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে ডিএমপি সবসময় তৎপর। প্রতিনিয়ত কারবারিদের গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান জোরদার অভিযান অব্যাহত। গডফাদাররা কেন গ্রেপ্তার হয় না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তথ্য পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমরা নতুন করে তালিকা করছি। সক্রিয় কারবারি কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে শীর্ষ সম্রাটরা। কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ে জামিনে বেরিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বুনিয়া সোহেল, গলা কাটা মনু, আনোয়ার হোসেন কাল্লু, পিচ্চি রাজা, জাবেদ ওরফে টিপু, চুয়া সেলিম, জানে আলম ওরফে চোর জানু, রায়েরবাজারের চাপাই আরিফ, কৃষি মার্কেট ক্যাম্পের সারফু আরমান, তাজ। আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের সিডি স্বপন, জনি ও বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির স্বপন ওরফে গ্রিল স্বপন। হাজারীবাগে সুমন, নিপা আক্তার, সুমি আক্তার, লাকি, আবুল কালাম, আজগর আলী, বেড়িবাঁধ টালী অফিস রোডের রোকসানা, বৌবাজার রানা বেকারি গলির মানিক ওরফে জিন্দা মানিক ও মো. মমিন মিয়া, সিটি কলোনির মো. আসাদ মিয়া ও আবদুস সামাদ, গজমহল হাড্ডি কারখানা এলাকার সোনিয়া বেগম, মনেশ্বর রোডের ফালান শিকদার ওরফে ফালান, বাড়ৈখালী ৪ নম্বর রোডের মো. হযরত ওরফে বসির, সুইপার কলোনির মোছা. গালমা আক্তার সাথী ও বোরহানপুরের ৫ নম্বর গলির মো. সজল।

কামরাঙ্গীরচরের মুনসুরবাগের আল হেরা কমিউনিটি সেন্টার এলাকার মো. মনির হোসেন, নয়াগাঁও মুড়ি ফ্যাক্টরি এলাকার হাসি ও খুরশিদা বেগম ওরফে খুশি, মুসলিমবাগের মো. আরমান, বড়গ্রাম বাঁশতলা এলাকার মো. রমজান, কুমারঘাটের মো. ইয়াকুব আলীসহ আরও সাতজন। কোতোয়ালির কুমার নাগ, সাইফুল ইসলাম ওরফে সাগর, পারুলী রানী, মনির হোসেন ওরফে জনি, শম্ভুনাথ সুর, মো. মাইনুদ্দিন, আকরাম, আজিম, জীবন, সাজন প্রাসাদ ও জিতু চন্দ্র দাস।

চকবাজারে লিটন, চামারু রতন, আরমান হোসেন, তারা মিয়া এবং শাহিন। লালবাগে রেজাউল, শাওন, মামুন মিয়া, স্বপন, তুহিন, রোজিনা আক্তার, টাইগার বাবুল ওরফে জাক্কি বাবু, সোহেল রানা, শাকিল, সাব্বির, মিজান, জুয়েল, পিসাস আরিফ, হায়দার হোসেন, রোজিনা বেগম, খলিল, মহিন, ইয়াছিন ও সজল।

বংশালের হীরা মিয়া, টেক্কা সুমন, বেরী রকি, কাওছার উদ্দিন মানিক, মনির হোসেন ওরফে কোরবান, বিল্লাল হোসেন শাওন, মুরগি আসিফ, বাপ্পি, সাগর বেপারি ও পারভেজ। ডেমরায় পিচ্চি হৃদয়, পেটু সোহেল কান্দি সোহেল, সজীব, এমদাদুল হক, কামাল হোসেন, লিটন, রবিউল ইসলাম ভূঁইয়া, শিশির খান, রফিকুল ইসলাম সুমন, টুটুল আলম ভূঁইয়া, ইয়াকুব আলী, জাকির হোসেন ও সোহেল সাউদ।

যাত্রাবাড়ীতে ইয়াছিন আহমেদ সাকিব, আমীর হোসেন, আমির, চান্দি রতন, মাসুদ তালুকদার দীপু, পিচ্ছি মাসুম, সোর্স রমজান, দেলোয়ার, সাকিব, আসমা আপা, নাজমা আপা, জয়, জজ মিয়া, তেরো সাদ্দাম, বুলেট রতন, আলী ও কামাল।

শ্যামপুরে দিনার কাজল, মাসুম মিয়া, তারেক দস্তগীর, কসাই সোহেল, মিতু, মুন্না, হাসু গেম, সাদ্দাম হোসেন, শহিদ, আসিকুজ্জামান শাওন, ওয়াসিম, হাসান আলী লোকমান, শাহজাহান মিয়া ও হাবিবুর রহমান হাবু, ফেন্সি আরিফ, আবুল হাশেম, তপন মিয়া, শামীম হোসেন, ঈশান ও পাপ্পু ওরফে অপু। ওয়ারীতে লাবণী আক্তার, মেজবা আহম্মেদ জিকু, নাসিরুদ্দিন রনি, মিরাজ, আলআমিন ওরফে মানিক, রিপন মিয়া, শহীদুল ইসলাম মুক্তি, করিম ও মনি আক্তার। গেন্ডারিয়াতে রহিমা, মনিরুল হক রবিন, পিচ্চি রানা, সজীব, বিকাশ ওরফে প্রকাশ ওরফে গোলাম মোস্তফা, আমির হোসেন, ইমরান ও লেংড়া মিলন।

কদমতলীতে জুলহাস, জাহাঙ্গীর আলম টিটু, বাপ্পারাজ, আবুল হোসেন কালু, সেকান্দার আলী, ইমন হোসেন পিয়াস, সাইদুর রহমান সজীব, কোরবান, ইকবাল, আরমান ওরফে জিতু, স্বপন, কানা জব্বার। মুগদাতে আনোয়ার হোসেন মিল্লাত, মঞ্জুর হোসেন নিজু, শহিদুল ইসলাম রিন্টু, রাকিবুজ্জামান রবিন, কাজল, মনির হোসেন, কেরকেরা মাসুদ, লতা আক্তার, সোহেল, কেরকেরা রিপন। সবুজবাগে চম্পা, ময়না, শামীম, তানিয়া, মিলন, দিবা আক্তার, টেষ্টি বাবু, আশিকুর রহমান শান্ত ও খোরশেদ।

পল্টনে আলী আজম, লালন, শরীফ, হানিফ, চাঁদনী আক্তার, রুবিনা, পাখি ওরফে নিপা, আকাশ হাওলাদার ওরফে সাগর, জাহাঙ্গীর হোসেন রনি, শরীফ আলম। মতিঝিলে শুকুর আলী, তানিয়া, ক্যাসেট সোহেল, রুবেল মিয়া, হীরা, শাকিল সিদ্দিক ও আমিন। খিলগাঁওয়ে খালেদ মিয়া, বাবুল মোল্লা, মাইনউদ্দিন, শাহজালাল, আল আমিন ভূইয়া। শাহজাহানপুরে হারিছ মিয়া, আশরাফুল আলম হীরা, সজল হোসেন, শাওন চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন সাবু, দেলোয়ার হোসেন, মানিক হোসেন, কানা সোহেল ও দাঁতকাটা কামাল। রামপুরার সোহেল, ছারজিনা, সজল হাওলাদার, ফাতেমা আক্তার ফতেহ, পেন্ডি সোহাগ, আমিরুল ইসলাম, ইরিন, মহিউদ্দিন শিপলু, রিফাত ও ফজলে রাব্বি। মিরপুরে মিঠু, সাইফুল ইসলাম পাখি, এবাদুল ইসলাম বাদল, বকুলী পারুল, শামীম, শাহজাহান আবেদীন লিটন, বিষু, রুবেল হাসান, নয়ন, শাকিল, শফিউল ইসলাম নীরব, শাহীন ইসলাম জীবন, জুবায়ের হোসেন রাসেল, জনি, কাইল্যা মনির, নাসির, ইমরান, সুলতান, রিয়াজুল ইসলাম শাওন, মহসীন, মাসুদুর রহমান রানা, ফজলুল করিম সাকিল, হাসান ও উজ্জ্বল। ভাসানটেকে রূপচান খান, মোর্মেদা বেগম, বাবলু। রূপনগরে সালেহা বেগম, সোহাগ শিকদার, সাহাবুদ্দিন শিকদার। শাহআলীতে পারুল বেগম, আজগর আলী, পাপন, মনির হোসেন, কাঁকড়া জাকির, আশিক, সাদ্দাম মিয়া। ভাটারায় রুবেল মিয়া, রাজু আহম্মেদ, ইতি, আনোয়ারা বেগম, রুস্তম হোসেন বিপ্লব, মরিয়ম আক্তার মেরি।

খিলক্ষেতে পারভীন আক্তার, আরিফ, সেলিম, রায়হান, আক্তার হোসেন, আফাজ উদ্দিন, আরিয়ান রহমান, মহসিন মোল্লা, জামাল হোসেন, মুরাদ হাসান। বনানীতে জিল্লুর রহমান, এরশাদ মিয়া, সাগর হোসেন মনির, টোকাই আনোয়ার, লিটন, বরিশাইল্লা নাসির, মিজানুর রহমান, সাততলা বস্তির আইলশা মনির, সাগর, ঘাড়কাটা বাবুল, রনি ও জাহিদুল ইসলাম। ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় ইয়াবা জামাল, পারভেজ, কসাই রুবেল ওরফে গরু রুবেল, রূপচাঁন। গুলশানে শাহজাহান সাজু, মিলন, শাহাবুদ্দিন, শামসুল হক, ডিস আলামিন, শুভ আহমেদ তাওছিন আকন, আলামিন ও হেনা বেগম।