যেকোনো মুহূর্তে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিচ্ছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। প্রস্তুত বহুল আলোচিত-সমালোচিত এই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রও। এর মধ্যেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। তিনি দেশে ফিরলেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এক্ষেত্রে আজ শুক্রবার বা আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর পদত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বঙ্গভবন ও সরকারের একাধিক সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে স্পিকারের কাছে । রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বাস্থ্যগত সমস্যাসহ যেকোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ আছে। সংবিধান অনুযায়ীই এটি সুরাহা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভারতে পলাতক পতিত স্বৈরাচার হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুংকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করেছে।
সূত্র জানায়, ‘উন্নত চিকিৎসা’ ও ‘পূর্ণ বিশ্রামের’ জন্য রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত সাত দিনের মধ্যে তিনি দুই দফা ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এতে তার হৃদরোগের পাশাপাশি নিউরোসংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসা ও বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমার দেশকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, তিনি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তার ওপর সাংবিধানিক যে দায়িত্ব ছিল, তা নির্মোহভাবে পুরোপুরি পালনের চেষ্টা করেছেন।
২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই পদ ছাড়ছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অভিপ্রায় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গভবনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তিনি (রাষ্ট্রপতি) খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব। চলতি মাসেই দুই দফায় সিএমএইচে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। তার সিটিস্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। হৃদরোগজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি তার নিউরোলজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে। এর আগেও তিনি সিঙ্গাপুরে বাইপাস সার্জারি করিয়েছেন। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসেছেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে তার উন্নত চিকিৎসার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরছেন স্পিকার
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে পাঠানো স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসরণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ওই তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছেন। তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তিনি থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
সংবিধান অনুযায়ী সুরাহা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সরকারের অভিমত কী—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে। জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেটা পরে দেখা যাবে।
স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের বিধান সংবিধানে রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সেরকম সিদ্ধান্ত নিলে আর তার পদত্যাগের ঘটনা ঘটলে পরে সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এর আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিনিয়র একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। তারাও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার রয়েছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তিনি যতক্ষণ এ পদে আছেন, ততক্ষণ তিনি সাংবিধানিকভাবে দেশের অভিভাবক। সরকার তার সঙ্গে সাংবিধানিক সম্পর্ক বজায় রাখবে।
নির্বাচনের পরই সরে যেতে চেয়েছিলেন
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তিনি এ পরিকল্পনার কথা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানান। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি চলে যেতে আগ্রহী। আমি (বঙ্গভবন থেকে) বেরিয়ে যেতে চাই।’
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন না হয়, ততক্ষণ থাকা উচিত। আমি মূলত সংবিধানসম্মত পদমর্যাদা রক্ষা করার জন্যই এখানে আছি।’
হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে বিতর্ক
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা সুখকর ছিল না বঙ্গভবনের। গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ও পলায়নের আড়াই মাস পর একটি সংবাদপত্র রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) শুনেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন; কিন্তু তার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।’ এমন সংবাদ প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলন হয়। তারা কয়েক দিন বঙ্গভবন ঘেরাও করে রাখেন।
হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনায় রাষ্ট্রপতির বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, আলোচনা ও সমালোচনার পর বঙ্গভবন থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগকেন্দ্রিক মীমাংসিত বিষয়ে নতুন করে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বিব্রত করা থেকে বিরত থাকার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।
যদিও হাসিনার পতন ও পলায়নের পরদিন রাষ্ট্রপতির আদেশে দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত অভিমত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য ঘোষণা করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বঙ্গভবনের বিবৃতির পর আন্দোলন স্তিমিত হলেও সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের দূরত্ব আর ঘোচেনি। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে তার প্রেস বিভাগও সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও হাইকমিশন থেকে তার প্রতিকৃতিও সরিয়ে ফেলা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে সরকার গঠনের পর সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রতিনিধিত্ব
রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবনী থেকে জানা গেছে, ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। ১৯৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭২ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জন্ম ১৯৪৯ সালে পাবনা শহরের শিবরামপুর মহল্লার জুবিলি ট্যাংকপাড়ায়। রাধানগর মজুমদার (আরএম) একাডেমি থেকে প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে সরকারি এডওয়ার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এসএসসি, ১৯৬৮ সালে এইচএসসি এবং ১৯৭২ সালে বিএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৫ সালে পাবনা আমিনুদ্দিন আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যোগ দেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডার হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন চট্টগ্রামের জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে ২০১৭ সালের জুনে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক নিযুক্ত হন। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বঙ্গভবনে বিদায়ের সুর
গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ব্যস্ততম দিন কাটান রাষ্ট্রপতি। গতকাল সকালেই তিনি নিজ দপ্তরে আসেন। যথারীতি চারটি ফাইলে স্বাক্ষর করেন। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদিও বিনিময় করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির কার্যলয়ের এক কর্মী আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন—এ সংক্রান্ত সংবাদ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যেও বেশ কৌতূহল ছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এদিনই হয়তো বঙ্গভবনে ‘মহামান্য’র শেষ দিন। তবে বঙ্গভবনে বিদায়ের সুর লক্ষ্য করা গেছে বলেও জানান এই কর্মী।
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই মহামান্য শারীকিভাবে ভীষণ অসুস্থ। এরপরে গণমাধ্যমগুলোয় পদত্যাগের সংবাদ বেশ ফলাও করে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই তিনি কিছুটা বিষণ্ণ ছিলেন। স্যারের সঙ্গে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছি, একটি মায়া তো তৈরি হবেই। প্রতিটি বিদায়ই কষ্টদায়ক। আমাদের মধ্যেও এমনটি কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আমার দেশ-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের বেশকিছু আগ্রহ আর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। ওই সময় তার পদত্যাগের প্রসঙ্গটিও এসেছিল। বঙ্গভবনে এখন কেমন আছেন, কবে নাগাদ পদ ছাড়তে চান—এমন প্রশ্ন ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে। জবাবে স্মিত হেসে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ পদে আছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে রাষ্ট্রের কল্যাণে যতটুকু করার, সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেছি। এখন সম্মানের সঙ্গে যেতে চাই। সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশ, গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য যেটা কল্যাণকর, সেটাই করার চেষ্টা করেছি।
রাষ্ট্রপতির আলোচনায় যারা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবরের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার নাম আলোচনায় আসছে। এছাড়া শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীর নামও আলোচনায় রয়েছে। বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান রয়েছেন রাষ্ট্রপতির আলোচনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীও রয়েছেন আলোচনায়। সম্প্রতি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানের নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।