Image description

নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছিল ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ। হঠাৎ গুলি এসে লাগে তার মাথায়। বাবার কোলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় রিয়া। 

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সকালে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালে।

রিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা জানান, গত ১৯ জুলাই বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে চারতলা বাসার ছাদে উঠেছিল রিয়া।

পরিস্থিতি দেখার সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রিয়ার বাবা দীপক কুমার গোপ বলেন, ‘শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। আমাদের চারতলা বাসার ছাদে আরও অনেকের সঙ্গে পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিল আমার মেয়েটা। হঠাৎ একটি গুলি এসে লাগে তার গায়ে। আজ মারা গেল আমার মেয়েটা।’

ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, ১৭ জুলাই থেকে আট দিনে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জুলাই দুজন, ১৮ জুলাই ১১ জন, ১৯ জুলাই ৪৩ জন, ২০ জুলাই দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন, ২১ জুলাই নয়জন, ২২ জুলাই ছয়জন, ২৩ জুলাই একজন এবং ২৪ জুলাই তিনজন মারা যান।

নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া আটজনের মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরে কেউ মরদেহ দাবি করলে স্বজনদের সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।

এদিকে রিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে মণ্ডলপাড়া থেকে দুই নম্বর গেট এলাকায় মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল চারটার দিকে মিছিলে গুলি ও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় নয়ামাটি এলাকার একটি চারতলা বাড়ির ছাদে খেলছিল রিয়া। তখনই তার মাথায় গুলি লাগে।

ঘটনার পর শিশুটিকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। রিয়ার বাবা জানিয়েছিলেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে মেয়েকে ছাদ থেকে নামাতে গিয়ে কোলে নেওয়ার মুহূর্তেই তার মাথায় গুলি লাগে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তারা করেনি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।