দেশে খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খেলাপির সংখ্যাও। গত বছরের মার্চে ঋণখেলাপির সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ, চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে প্রায় ৪৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। আর এই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে বড় অঙ্কের এবং বড় শিল্পগুলোই খেলাপি বেশি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খেলাপি ঋণের মার্চভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত বছরের মার্চে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এটা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ২ শতাংশে। আর চলতি বছরের মার্চে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে। খেলাপি ঋণের এই প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বগতির জন্য ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও কতিপয় বড় করপোরেট গ্রুপ দায়ী।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের মার্চে ঋণখেলাপির সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ, চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে প্রায় ৪৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এর মধ্যে ৪০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। এ খাতে খেলাপির সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে হার। ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি গত বছরের মার্চে ছিল ১ হাজার ৪৭৮ জন। আর চলতি বছর মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ২৫ জনে। একই সময়ে ৫০ কোটি টাকার বেশি গ্রহীতাদের কাছে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে সাড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে। ৪০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের খেলাপি ঋণ গত বছরের মার্চে ছিল সাড়ে ২৭ শতাংশ। এটা চলতি বছর মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশে।
ছোট ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে খেলাপির সংখ্যা গত বছরের মার্চে ছিল সাড়ে ২১ লাখ। আর চলতি বছর মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৪৫ লাখে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে খেলাপি ঋণ ১১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে। ছোট অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের খেলাপি বৃদ্ধি খুচরা পর্যায়ে বড় ধরনের অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এজন্য চারটি কারণ শনাক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এগুলো হলো-মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধনমান ব্যয় বৃদ্ধি, পারিবারিক ঋণগ্রস্ততা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে মন্থরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে দুর্বল ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ৪৫ শতাংশ শিল্প খাতে এবং ৩২ শতাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে। এই দুই খাতেই খেলাপি বেশি। ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে মোট ঋণের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিল্প খাতে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ খেলাপি। গত বছরের মার্চের তুলনায় দুই খাতেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। সব শিল্প ও ব্যবসা খাতেই খেলাপি ঋণ বাড়ছে। এটি দেশের অর্থনীতিতে গভীর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাপি ঋণের কারণে বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প খাত সর্বোচ্চ ঝুঁকির মুখে। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে বড় অঙ্কের এবং বড় শিল্পগুলোই খেলাপি বেশি। বৃহৎ অঙ্কের এই খেলাপি ঋণ আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কার সৃষ্টি করেছে। এদিকে ছোট অঙ্কের ঋণগুলোতেও খেলাপির প্রবণতা বাড়ছে; যা আর্থিক সংকটের একটি সতর্ক সংকেত। এগুলো দেশের অর্থনীতিতে গভীর চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।