Image description

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীকালে এই সংসদ সদস্যসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে— মামলা হওয়ার পরেও কি তার সংসদের সদস্যপদ বহাল থাকছে নাকি বাতিল হচ্ছে?   

 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, “কোনও নির্বাচনে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে, তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।”  

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “নৈতিক স্খলনজনিত কোনও ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কোনও এমপিকে অবশ্যই কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে, সাজা ভোগের পর আরও পাঁচ বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য থাকবেন। তবে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত হলেও, উচ্চ আদালত কর্তৃক যদি ওই দণ্ড ও সাজা স্থগিত বা বাতিল করা হয়, তাহলে তিনি সংসদ সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন।”  

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কোনও ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিধান নেই।”  

তিনি আরও বলেন, “সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয় যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।”  

 

তিনি বলেন, “দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।”  

এদিকে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হচ্ছে কিনা— এই বিষয়ে ইসি কী মনে করছে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ ও আর্টিকেল ৭০ অনুযায়ী বিষয়টি পার্লামেন্ট আমাদের কাছে রেফার করবে। তাদের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী যদি কোনও বিরোধ দেখা দেয়, তখন তারা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবে। কোনও বিরোধ দেখা গেলে পার্লামেন্ট রেফার করলেই নির্বাচন কমিশন কাজ করতে পারবে।”  

তিনি বলেন, “শুধু কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে চিঠি এলে খুব একটা কাজ করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। তারপরও পার্টির চিঠি আসুক, আমরা বিবেচনা করবো। আর পার্লামেন্ট থেকে এলে আমরা আইনগত দিক দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করবো।” 

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ইসিকে কোনও চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “জামায়াত থেকে কোনও চিঠি এসেছে কিনা, তা আমার জানা নেই। সংসদ সদস্যপদ থাকবে কিনা, সেটি এখনই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, বিষয়টি আগে পার্লামেন্ট থেকে আমাদের কাছে আসতে হবে। পার্লামেন্ট থেকে এলে তখন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো এবং সিদ্ধান্ত নেবো।” 

তিনি আরও বলেন, “এখানে সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬, আর্টিকেল ৬৭ এবং আর্টিকেল ৭০— এই তিনটি অনুচ্ছেদ জড়িত। এগুলো বিশ্লেষণ করে, আগে এই বিষয়ে কোনও রুলিং আছে কিনা, উপমহাদেশে এই ধরনের কোনও নজির রয়েছে কিনা, সেগুলো দেখে তারপর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেবো।”