পাকিস্তান সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, দল ক্ষমতায় এলে তিনি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইবেন। তার দাবি, এ দায়িত্ব পেলে তিনি নিজেই অঞ্চলটির উন্নয়নকাজ তদারকি করবেন এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করবেন।
মঙ্গলবার আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে দলীয় নির্বাচনী সমাবেশে এ কথা বলেন নওয়াজ। তিনি বলেন, আজাদ কাশ্মীর তার কাছে পাঞ্জাবের মতোই প্রিয়। তার পূর্বপুরুষও কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে এসেছিলেন। তাই অঞ্চলটির উন্নয়নকে তিনি ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলেই মনে করেন।
নওয়াজ শীফের অভিযোগ, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে মোটরওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে ও মহাসড়কের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে আজাদ কাশ্মীরকে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কোহালা থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েনি আধুনিক মহাসড়ক।
তিনি বলেন, তার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন আজাদ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দারের নেতৃত্বে মানসেহরা, মুজাফফরাবাদ ও মিরপুরকে ঝিলাম নদীর তীর ঘেঁষে সংযুক্ত করার একটি মোটরওয়ে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যেত বলে দাবি করেন তিনি।
পিএমএল-এন প্রধান বলেন, তার সরকার পতনের কারণে সেই প্রকল্পগুলো অসমাপ্ত থেকে গেছে। ক্ষমতায় ফিরে এলে শুধু সেগুলো শেষই নয়, আরও সম্প্রসারণ করা হবে। অতীতের হারানো সময় পুষিয়ে নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জনসভায় আজাদ কাশ্মীরের জন্য কয়েকটি নতুন উদ্যোগের কথাও জানান নওয়াজ। তার ভাষ্য, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই মুজাফফরাবাদে ১০টি গ্রিন বাস চলাচল শুরু করবে। পাশাপাশি শিগগিরই বৈদ্যুতিক বাসও নামানো হবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক রোগীকে চিকিৎসার জন্য খাটিয়ায় করে সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়, এরপর ইসলামাবাদে পাঠানো হয়। পথে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।
নওয়াজ আরও বলেন, তিনি যদি আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী না-ও হন, তবু প্রতি তিন মাস অন্তর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে সঙ্গে নিয়ে মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বকেও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে নওয়াজ অভিযোগ করেন, তার পরবর্তী সরকারগুলো উন্নয়নের বদলে শুধু স্লোগান ও আবেগনির্ভর রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, পিএমএল-এন আবার ক্ষমতায় ফিরলে আজাদ কাশ্মীরের হারানো উন্নয়নযাত্রা পুনরুদ্ধার করা হবে। তার প্রত্যাশা, একদিন মুজাফফরাবাদ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিক থেকে ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, পেশোয়ার ও কোয়েটাকেও ছাড়িয়ে যাবে।