সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে সচিব কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা চলছে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী জানালেন, নতুন পে স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বললেন, ‘দেশের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা কঠিন। সেই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের নবম পে কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাস পর্যালোচনার পর কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে বিষয়টি এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সচিব কমিটি সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আরও কয়েকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
কমিশনের সুপারিশে কোনো কাটছাঁট হবে কি না— এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি বললেন, ‘নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’