হাসছে মুসা। ফুফাতো ভাই-বোনের সঙ্গে খেলছে। এক হাত দিয়ে লেগো জোড়া লাগিয়ে কয়েক মিনিটেই বানিয়ে ফেলছে একটি রোবট। এই হাসি কেউ বুঝবে না, দুই বছর আগেও এই শিশুই ছিল প্রায় নিশ্চল। ৩ মাস চোখ খোলেনি, ৯ মাস মুখে কোনো শব্দ ছিল না। গুলির আঘাতে থেমে যাওয়া সেই ছোট্ট জীবন ধীরে ধীরে ফিরেছে। তবে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। যে বয়সে তার মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা, সে বয়সে তাকে লড়তে হচ্ছে একটি গুলির রেখে যাওয়া ক্ষতের সঙ্গে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিজের বাসার নিচে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে বাসিত খান মুসা। চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা, পরিবারের অদম্য লড়াই আর অসংখ্য মানুষের সহমর্মিতায় সে ফিরে এসেছে। কিন্তু পুরোপুরি নয়। আজও তার প্রতিটি হাসির আড়ালে রয়ে গেছে দীর্ঘ চিকিৎসা, অগণিত অস্ত্রোপচার আর অনিশ্চয়তার ছায়া।
দুই বছর চিকিৎসা নেওয়ার পর মুসা এখন বাড়িতে। ১৬ জুলাই রাজধানীর মালিবাগে নতুন ভাড়া নেওয়া ওই বাড়িতে দেখা হয় মুসার সঙ্গে। ‘মুসা’ বলে ডাক দিতেই মুখ তুলে তাকাল। ঠোঁটের কোণে ফুটল মৃদু হাসি। ‘কেমন আছ?’ প্রশ্ন শুনে কিছু বলল না। বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল তুলে জানিয়ে দিল, ভালো আছে সে।
একটি আইসক্রিম, তারপর গুলির শব্দ
মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামনি দম্পতির একমাত্র সন্তান বাসিত খান মুসা। বয়স এখন সাড়ে আট বছর।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায় ছেলেকে আইসক্রিম কিনে দিতে বাসার নিচে নেমেছিলেন বাবা। বাবার পেছনেই ছিল মুসা। আর মুসার পেছন পেছন নেমে এসেছিলেন তার দাদি মায়া ইসলাম (৬০)। বাসার মূল ফটকের ভেতরেই গুলি লাগে মুসার মাথায়। সেই গুলি ভেদ করে দাদির পেট ফুঁড়ে দেয়ালে গিয়ে লাগে। পরদিন মৃত্যু হয় মুসার দাদির।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকায় ছেলেকে আইসক্রিম কিনে দিতে মুসাকে নিয়ে বাসার নিচে নেমেছিলেন বাবা। পেছন পেছন নেমে এসেছিলেন তার দাদি মায়া ইসলাম। বাসার মূল ফটকের ভেতরেই গুলি লাগে মুসার মাথায়। সেই গুলি ভেদ করে দাদির পেট ফুঁড়ে দেয়ালে গিয়ে লাগে। পরদিন মৃত্যু হয় মুসার দাদির। শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ছোট্ট মুসার লড়াই।
এরপর শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ছোট্ট মুসার লড়াই। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিন মাস পর ওই বছরের ২২ অক্টোবর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে।
মুসাকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম আলোর ধারাবাহিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবাদ প্রকাশের পর ব্যক্তি, সংগঠন ও সরকার—সবাই এগিয়ে আসে।

২০২৪ সালের ২৮ জুলাই ‘মা একটু পরপর ছেলের বুকের কাছে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন নিশ্বাস নিচ্ছে কি না’ শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। একাধিক ফলোআপ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। দেশে মুসার চিকিৎসা আর সম্ভব নয় জানার পর গত ৭ অক্টোবর ‘আন্দোলনকালে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসাকে সিঙ্গাপুরে নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা, কে দেবে এত টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো।
এই সংবাদ প্রকাশের পর চ্যানেল আই মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেয়। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ২০তম ব্যাচের চিকিৎসকদের উদ্যোগে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত চিকিৎসক, প্রবাসী ও দেশের মানুষ অর্থসহায়তা দিয়ে মুসার পাশে দাঁড়ান। সরকার সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে মুসার চিকিৎসা নিশ্চিত করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে গত বছরের ৩ এপ্রিল মুসাকে নিয়ে দেশে ফেরেন মা–বাবা। বিমানবন্দর থেকে মুসাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএইচে। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলে মুসার।

দুই বছর পর, অন্য এক মুসা
রাজধানীর মালিবাগে মুসাদের নতুন বাসায় গিয়ে তার মা নিশামনিকে পাওয়া যায়নি। তিনি একটি পোশাক বিপণন কেন্দ্রে চাকরি নিয়েছেন। কিছুক্ষণ পর বাইরে থেকে বাসায় আসেন মুসার বাবা মুস্তাফিজুর রহমান।
বাসায় যাওয়ার পর ফুফু কেয়া ইসলাম হাত ধরে মুসাকে ড্রয়িংরুমে এনে সোফায় বসালেন। পাশে কিচিরমিচির করছে ফুফাতো ভাই–বোনেরা।
আমরা খুবই আশাবাদী মুসা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। ও একা একা আবার হাঁটতে পারবে। সুস্থতার জন্য ওর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগবে। ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি লাগবে।কর্নেল নাজমুল হামিদ, অধ্যাপক, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগ, সিএমএইচ, ঢাকা
‘অতিথির সঙ্গে হাত মেলাও?’ শুনেই বাঁ হাত বাড়িয়ে দিল মুসা। ডান হাতও তুলতে চাইল, কিন্তু পারল না। গুলির আঘাতে তার ডান পাশ এখনো পক্ষাঘাতগ্রস্ত। সোফায় বসে বাবা ডান পায়ে বিশেষ জুতা পরিয়ে দেন। মুসা পা ফেলতে চায়। ডান পা মাটিতে নামানোর আগেই আবার ঝুলে পড়ে। বাবা আলতো করে ধরে রাখেন।
একসময় যে শিশুটি ছুটে বেড়াত, এখন তার প্রতিটি পদক্ষেপই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বাইরে যেতে হলে হুইলচেয়ারই তার ভরসা।
মুসার ফুফু বললেন, মুসার অসুস্থতার কারণে তাঁরা এখন সবাই এক বাড়িতে থাকা শুরু করেছেন। সবাই মিলে তার দেখভাল করতে পারছেন। ফুফাতো ভাই–বোনের সঙ্গে থাকায় মুসা খেলারও সঙ্গী পাচ্ছে।

স্পাইডারম্যান এখনো তার নায়ক
মুসার পরনে ছিল স্পাইডারম্যানের ছবি আঁকা টি-শার্ট আর ধূসর রঙের পায়জামা।
ফুফাতো ভাই-বোনেরা মজা করে বলল, ‘স্পাইডারম্যান!’ মুহূর্তেই নিজের টি-শার্টের দিকে তাকাল মুসা। তারপর বাঁ হাতের আঙুল দিয়ে স্পাইডারম্যানের সেই পরিচিত ভঙ্গি করল, যেন জাল ছুড়ে দেবে সামনে। কিন্তু বাস্তবের মুসার কোনো জাল নেই। আছে শুধু অসংখ্য অস্ত্রোপচারের দাগ আর আবার হাঁটতে শেখার দীর্ঘ লড়াই।
দুই বছর আগের ছবিগুলোতেও তাকে দেখা যায় স্পাইডারম্যানের পোশাকে। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মুসা অচেতন থাকার সময় তার মা জানিয়েছিলেন, স্পাইডারম্যান মুসার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র।
আর এবার পরিবারের সদস্যরা জানালেন, স্পাইডারম্যান মুসার এখনো প্রিয় চরিত্র। আরেকটা কাজ সে দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে, তা হচ্ছে লেগো দিয়ে রোবট বানানো।
পরিবারের একজন ভেতর থেকে লেগোর বাক্স এনে দিলেন। মুসা মন দিয়ে খেলনা জোড়া লাগাতে শুরু করল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক হাত দিয়েই বানিয়ে ফেলল একটি রোবট। ঘরে তখন করতালির শব্দ।
এত করতালি দেখে মুসা আবার হাসল। তার হাসি যেমন হৃদয় জুড়ায়, তেমন-ই পোড়ায়ও। কারণ, এই বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে দৌড়ানোর কথা ছিল। অথচ সে লড়ছে শরীরের সঙ্গে, স্মৃতির সঙ্গে, সময়ের সঙ্গে।

কথা ফিরেছে, তবে পুরোপুরি নয়
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে মুসা কোনো কথা বলছিল না। সিঙ্গাপুরে যখন কিছুটা সুস্থ হয়, তখনো সে কোনো কথা বলত না। এমনকি ব্যথা পেলেও আওয়াজ করে কাঁদতে পারত না।
২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল সিএমএইচে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার সময় হঠাৎ একদিন মুসা শব্দ করে কাঁদতে থাকে। আরেক দিন ফিজিওথেরাপি দেওয়ার সময় সে বলে উঠল, ‘ব্যথা, ব্যথা।’ এর পর থেকে ‘মাম্মি’, ‘আন্টি’ ও ‘দাদা’র মতো টুকটাক শব্দ বলা শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে ফিরতে থাকে ছোট্ট মুসার কথা।
মুসাকে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তিন মাস পর ওই বছরের ২২ অক্টোবর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে।
মুসার ফুফু বলেন, মুসা এখন অল্প অল্প কথা বলতে পারে। বাংলা ও ইংরেজিতে সংখ্যা গোনে। এ বি সি ডি বলতে পারে। ছোট ছোট ছড়া বলতে পারে। টয়লেটে যাওয়ার কথাও বলতে পারে। তবে জিবে এখনো আড়ষ্টতা আছে।

২০টির বেশি অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ লড়াই
সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে মুসা কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র ছাড়া শ্বাস নিতে পারত না। খিঁচুনি হতো। শরীরে ভয়াবহ সংক্রমণ ছিল। বারবার খিঁচুনি হতো। অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করছিল না। চোখের পাতাও নাড়াতে পারত না।
সিঙ্গাপুরে ব্যয়বহুল ওষুধে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হয়। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসায় মুসার মাথা, গলা ও পেটে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
মুসা যেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে, সে কারণে আরেকটু সহযোগিতা প্রয়োজন। তা না হলে ও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমরা সবাই মিলে এত কষ্ট করলাম! ও এত কষ্ট সহ্য করল! সব বৃথা হয়ে যাবে!মুস্তাফিজুর রহমান, মুসার বাবা
ঢাকা সিএমএইচের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক কর্নেল নাজমুল হামিদ সে সময় প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী মুসা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। ও একা একা আবার হাঁটতে পারবে। সুস্থতার জন্য ওর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা লাগবে। ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি লাগবে।’

চিকিৎসা থেমে যাওয়ার শঙ্কা
সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে মুসাকে নিয়মিত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ফিজিওথেরাপি করানো যাচ্ছে না। বাসায় থেরাপিস্ট আনতে যে খরচ লাগে, তা বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা শিশুটি কি আবার সংকটে পড়বে—এই চিন্তায় দিশাহারা পরিবার।
মুসার বাবা মুস্তাফিজ বলেন, মুসার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক। তাই তাকে বাসার বাইরে ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য নেওয়া যাচ্ছে না। বাসায় ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়ে আসা অনেক ব্যয়বহুল, যা বহন করার সামর্থ্য তাঁর নেই। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান করে যে আয় হয়, তা দিয়ে চিকিৎসার এত ব্যয় মেটানো যায় না।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে মুসা কোনো কথা বলেনি। সিঙ্গাপুরে যখন কিছুটা সুস্থ হয়, তখনো ও কোনো কথা বলত না। এমনকি ব্যথা পেলেও আওয়াজ করে কাঁদতে পারত না।
কোনো উপায় না পেয়ে বাসায় বিনা মূল্যে ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থার জন্য গত বছরের জুলাই মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন মুসার বাবা। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাননি।
মুসার বাবার বড় দুশ্চিন্তা সিঙ্গাপুরে ফলোআপ চিকিৎসা নিয়ে। গত বছরের ১৪ জুন সিএমএইচ নিউরোসার্জারি বোর্ড থেকে মুসার চিকিৎসাসংক্রান্ত সারসংক্ষেপে মুসার শারীরিক অবস্থা ও সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকের ফলোআপ করার পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এরপর জুলাই মাসে মুসার পরিবার সরকারি ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে মুসার ফলোআপ চিকিৎসায় যায়।
মুসার বাবা বলেন, এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁদের আবার ফলোআপে যাওয়ার তারিখ থাকলেও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অনুমোদন পাননি। পরে চলতি বছরের ১৫ মে আরেকটি ফলোআপ তারিখ নেন। কিন্তু অনুমোদনের অপেক্ষায় সেই তারিখও পেরিয়ে গেছে।
গত ১১ মে সিএমএইচের মেডিক্যাল বোর্ড আবার তাঁদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সারসংক্ষেপে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকের ফলোআপ করার পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। চার সদস্যের এই মেডিক্যাল বোর্ডের সভাপতি হলেন সিএমএইচের জ্যেষ্ঠ নিউরোসার্জন অধ্যাপক কর্নেল মো. আল আমিন সালেক। মুসা সিএমএইচে তাঁর অধীন চিকিৎসাধীন ছিল।
বারবার সাড়া না পেয়ে সিএমএইচের সুপারিশ করা চিঠি মুসার বাবা ২৫ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে গিয়ে নিজে পৌঁছে দিয়ে এসেছেন।
মুসার বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। জুলাই আহত ব্যক্তিদের বিদেশে ফলোআপ চিকিৎসা করার জন্য একটি কমিটি আছে। সেই কমিটি ফলোআপের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেয়। মুসার ফলোআপ-সংক্রান্ত চিঠি কমিটির বিবেচনাধীন। আর মুসার ফিজিওথেরাপি অব্যাহত রাখা বা বাসায় করানোর বিষয়ে কী করা যায়, সেটাও তাঁরা দেখছেন।মো. মুস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান ১৯ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, মুসার বিষয়ে তাঁদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। জুলাই আহত ব্যক্তিদের বিদেশে ফলোআপ চিকিৎসা করার জন্য একটি কমিটি আছে। সেই কমিটি ফলোআপের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেয়। মুসার ফলোআপ-সংক্রান্ত চিঠি কমিটির বিবেচনাধীন। আর মুসার ফিজিওথেরাপি অব্যাহত রাখা বা বাসায় করানোর বিষয়ে কী করা যায়, সেটাও তাঁরা দেখছেন।

শেষ হয়ে আসছে ওষুধ-খাবার
মুসা সব খাবার স্বাভাবিকভাবে খেতে পারে। তার নাকে এখনো খাবারের নল লাগানো। নল দিয়ে দুধজাতীয় খাবার দিতে হয়। এ জন্য বিশেষ টিনজাত পুষ্টিকর খাবার ও ওষুধের ওপর তাকে নির্ভর করতে হয়।
মুসার বাবা বলেন, তাঁরা মুসার জন্য এই টিনজাত খাবার ও ওষুধ সিঙ্গাপুর থেকে বেশি করে নিয়ে এসেছিলেন। সেই খাবার গত জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে। আর ওষুধও প্রায় শেষ। এ কারণে ছেলেকে নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা কাটছে না।
‘মুসা যেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে, সে কারণে আরেকটু সহযোগিতা প্রয়োজন। তা না হলে ও আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমরা সবাই মিলে এত কষ্ট করলাম! ও এত কষ্ট সহ্য করল! সব বৃথা হয়ে যাবে!’—ছেলেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের কাছে এই আকুতি জানিয়েছেন মুসার বাবা মুস্তাফিজ।