Image description

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ফের স্বপদে বহাল হয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বরখাস্তের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধা ও নগরের ধরমপুর এলাকার বাসিন্দা আমানুল্লাহ আমানের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রুয়েট শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের সেকশন অফিসার রাইসুল ইসলাম রোজ, হিসাব শাখার জুনিয়র অডিট অফিসার রফিকুল ইসলাম বিপু, গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মুফতি মাহমুদ রণি এবং টেকনিক্যাল অফিসার মাহাবুব সালাম সেতু।

 

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় এই আসামিরা বহাল তবিয়তে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা এই মামলার আসামিরা পলাতক ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাইসুল ইসলাম রোজ ২০০৮-০৯ সেশনের ছাত্রলীগের রুয়েট শাখার সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখের আমলে বিতর্কিত নিয়োগের মাধ্যমে তিনি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৩ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যাদের অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেই তালিকায় রোজের নাম রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।

 

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি রুয়েট রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ৫৫৭০ নম্বর স্মারকসংবলিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাইসুল ইসলামের স্বপদে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে মামলার অন্য তিন আসামি বিপু, রণি ও সেতুও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

 

মামলার বাদী আমানুল্লাহ আমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারের আশা নিয়ে মামলা করেছিলাম। কিন্তু রুয়েট কর্তৃপক্ষ আসামিদের প্রশাসনিক শাস্তি না দিয়ে উল্টো সহযোগিতা করছে। এতে আমরা চরম হতাশ। অবিলম্বে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

 

এদিকে এদিকে জুলাই যোদ্ধা ও বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রুয়েট প্রশাসন বিগত আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচাতে মরিয়া। আওয়ামী আমলে ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া রেজিস্ট্রার আরিফ আহমেদ চৌধুরীর ভূমিকার কারণেই ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারীরা শাস্তির মুখোমুখি না হয়ে কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে।

 

এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কিছু কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যরা অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করেছিলেন। তাদের ছুটির বিষয়টি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠছে, তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।