মাঝআকাশে হাজার ফুট উঁচুতে বিমান উড়ছে। বিমানে নেই কোনো ইন্টারনেট সংযোগ, বাইরে পৃথিবীর সঙ্গে নেই কোনো যোগাযোগ।
নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালটি তখনো বিমানের যাত্রীদের কাছে এক রহস্য। স্পেনের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে গেলেও বিমানের ভেতরে থাকা মানুষগুলো তা জানতেন না।
মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গম্ভীর গলায় ককপিট থেকে ঘোষণা শুরু করেন তিনি, ‘অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল চরম উত্তেজনায় ভরপুর। দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বকাপ ফাইনালে কেবল একটি দলই জিততে পারে।
পাইলটের এই বাক্য শেষ হওয়ার আগেই বিমানের ভেতরের পরিবেশ বদলে যায়। আর্জেন্টাইন যাত্রীরা ভেবে বসেন, অভিনন্দন যেহেতু তাদের জানানো হচ্ছে, তবে শিরোপা বুঝি তাদেরই! পুরো বিমানে একযোগে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস, হাততালি আর চিৎকার।
কিন্তু তাদের সেই উদযাপনের আয়ু ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড! আর্জেন্টাইনদের আগাম উদযাপনের তোপ সামলে পাইলট মাইক্রোফোনে যোগ করলেন বাক্যের আসল শেষ অংশ, ‘...কারণ, স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে!’
এক মুহূর্তেই উল্লাস থেমে গিয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। যাত্রীদের হতভম্ব চেহারা দেখে পাইলট হাসতে হাসতে জানান, তিনি স্রেফ একটু দুষ্টুমি করছিলেন। বাস্তবে স্প্যানিশ দলই শেষ হাসি হেসেছে।
উল্লেখ্য, রবিবারের সেই মহানাটকীয় ফাইনালে শেষ পর্যন্ত স্পেনই বাজিমাত করে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চরম চাপে পড়ে ১০ জনের দল আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, আর ১-০ গোলের ব্যবধানে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্প্যানিশরা।