Image description

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। শুধু রপ্তানি আয়ই কমেনি, একই সঙ্গে কমেছে পণ্যের পরিমাণ ও গড় দাম। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসের (জানুয়ারি-মে) তথ্যে এ উদ্বেগের চিত্র উঠে আসে। সাধারণত মন্দা থাকলে পণ্যের দাম বা পরিমাণ যেকোনো একটি কমে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সব সূচকেই বড় পতন হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইইউর পোশাক আমদানি বৈশ্বিক স্তরে ৯.৯৬ শতাংশ কমেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই পতনের হার দ্বিগুণেরও বেশি। এই পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে ১৮.৮৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে ৮৯৭ কোটি ১৩ লাখ ইউরোর পোশাক আমদানি করেছিল ইইউ। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি বা ৬৯ লাখ ইউরোতে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ প্রায় ১৬৯ কোটি ৪৪ লাখ ইউরোর বাজার হারিয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির পরিমাণ বা ভলিউমও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানির পরিমাণ কমেছে ১০.৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রতি কেজি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১৫.৪১ ইউরো থেকে কমে ১৩.৯৬ ইউরোতে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। 

সাধারণত কোনো দেশ বেশি পণ্য কম দামে বিক্রি করে বাজার ধরে রাখে। অথবা উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রি করে মোট আয় বজায় রাখে। কিন্তু বাংলাদেশ দুই পথেই ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মে মাসের চিত্রও বেশ হতাশাজনক। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ ইউরোর পোশাক নিয়েছিল ইইউ। ২০২৬ সালের মে মাসে তা ১৭.১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১৮ কোটি ২৬ লাখ ইউরোতে। মে মাসে আমদানির পরিমাণ ১৩.৫৫ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ৪.১৩ শতাংশ কমেছে। ইইউ বাজারে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সময়ে চীন থেকে ইইউর পোশাক আমদানি কমেছে মাত্র ৪.২০ শতাংশ। চীন তাদের রপ্তানির পরিমাণ ১.৯৬ শতাংশ বাড়িয়ে বাজার ধরে রাখতে পেরেছে। 

অন্যদিকে ভিয়েতনামের রপ্তানি মূল্য কমেছে মাত্র ১.৫১ শতাংশ। দেশটি উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি করে ইউনিট মূল্য ১২.২৬ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের রপ্তানির পরিমাণ কমলেও অন্য সূচকে তারা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। একমাত্র বাংলাদেশই সব দিক থেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসি বাজার কৌশল ও সর্বোপরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ধীরগতির কারণে পোশাক খাত এ সমস্যায় পড়েছে।