রাজধানীসহ দেশ জুড়ে টানা বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। বেড়েছে বেশির ভাগ পণ্যের দাম। বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মুরগির ডিমের দামও চড়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। যদিও মুরগি ও ডিমের দাম আগে থেকেই বাড়তি রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন বাজারের নিত্যপণ্যের বাজারে এই চিত্র দেখা গেছে। একইসঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি চাষে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা। অতিবৃষ্টিতে সবজি পচে যাওয়াসহ পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে এখন সবজির সরবরাহ কম। এই প্রাকৃতিক সংকটের সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী আবার অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। তাছাড়া টানা বৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুর ও মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে মাছের সরবরাহও কমেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মগবাজার কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসান বলেন, বর্ষাকালের প্রভাবে সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। অনেক সবজিই নষ্ট হয়ে গেছে। সবজি পরিবহনেও ভোগান্তি। ফলে বাজারে সরবরাহ অনেক কমে গেছে। আগে প্রতিদিন যে পরিমাণ সবজি আসতো, এখন এর অনেক কম আসছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েক দিন দাম কমার সম্ভাবনা কম। একই এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন ফকির। তিনি বলেন, আমাদের সবজি কিনে আনতেই বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এখন। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, মাঠে নতুন করে সবজি চাষ করার পর তা বাজারে না আসা পর্যন্ত এই চড়া ভাব বজায় থাকতে পারে। কেননা, এই মৌসুমে ইতিমধ্যেই অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই নতুন মৌসুম আসার জন্য অপেক্ষা করা লাগবে।
৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া হাইব্রিড শসা এখন ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দেশি শসার দাম আরও বেশি। ৮০ টাকা কেজির বেগুন এখন ১২০ টাকা, ৮০ টাকা কেজির করলা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও চিচিঙ্গা ইত্যাদি সবজি গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন এই সবজিগুলোর দাম পৌঁছেছে শত টাকার ঘরে। লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। তবে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, পটোল।
শুধু সবজির দামই নয়। মাসখানেক ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগিরও। মুরগির দাম বাড়ার সপ্তাহখানেক পর বাড়ে ডিমের দামও। আগে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সর্বশেষ প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধরনের সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছের দামও বেশ চড়া। মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েক দিন আগেও ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে।
ওদিকে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ক্ষোভ ঝাড়ছেন ক্রেতারাও। কেউ কেই অভিযোগ করছেন, বৃষ্টি ও বন্যার বাস্তব প্রভাব থাকলেও কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন। কাওরান বাজারের ক্রেতা নাসির বলেন, সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে না, কিন্তু প্রতিদিনই বাজার খরচ বাড়ছে। এখন প্রয়োজনীয় সব পণ্য একসঙ্গে কিনতে গেলেই বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। আগে সবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টিতে এখন সবজিও উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে। গৃহিণী তাহমিনা বলেন, প্রতি শুক্রবারের মুরগি কিনতে হয়। ব্রয়লার মুরগির দাম কোরবানির ঈদের পর বেশ কমে থাকলেও এখন প্রায় ৩০ টাকা বেশি দিয়ে বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।