Image description

ফুটবলের বিশ্বকাপকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। রোববার রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরের এই ফাইনাল। বিশ্ব ফুটবলের এই মহারণকে ঘিরে দুই শিবিরে বিভক্ত বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। একদিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অন্যদিকে তরুণতুর্কি লামিন ইয়ামালের স্পেন।

বাংলাদেশের সিংহভাগ সমর্থকই চাচ্ছেন- ফুটবলের নতুন রাজা মেসির হাতেই উঠুক আর্জেন্টিনার সোনালি ট্রফি। দলটির সমর্থকরা মনে করছেন- মেসির জাদুতে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোয় আর্জেন্টিনার পুরো টিমই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। তাই টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতার স্বপ্নে বিভোর দেশটির সমর্থকরা।

অন্যদিকে স্পেন সমর্থকদের পাশাপাশি ব্রাজিল সমর্থকরা চাচ্ছেন- লামিন ইয়ামালের হাতেই উঠুক বিশ্বকাপের ট্রফি। দলটির সমর্থকরা জানান, স্পেনের রয়েছে চীনের প্রাচীরের মতো রক্ষণ, মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাসিং। স্পেনের কৌশলী ফুটবলের কাছে থেমে যেতে পারে মেসির পায়ের জাদু। ফলে মাঠের লড়াইয়ের আগেই যুক্তি, বিশ্লেষণ, আবেগ ও ভবিষ্যদ্বাণীতে জমে উঠেছে সমর্থকদের আরেকটি অদৃশ্য ফাইনাল।

নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বাদল বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক, আর আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি। ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমার জন্য আবেগ, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতির নাম। মেসিকে মাঠে দেখলেই বিশ্বাস জন্মায়। তার পক্ষে অসম্ভবও সম্ভব। তাই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, শেষ হাসিটা যেন মেসিই হাসেন।

ব্র্যাক ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থী আফরিদা খান বলেন, আমি স্পেনের সমর্থক। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়- কিছু ম্যাচে আর্জেন্টিনা সুবিধা পেয়েছে। তাই আমি চাই ফাইনালটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হোক। যে দল ভালো খেলবে, সেই দলই জিতুক। আমি বিশ্বাস করি, স্পেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলবে এবং বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করবে। ফল যাই হোক, আমি চাই ম্যাচটি হোক উত্তেজনাপূর্ণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং ফেয়ার প্লেতে ভরপুর। তবে একজন স্পেন সমর্থক হিসেবে আমার একটাই আশা শেষ বাঁশি বাজলে বিশ্বকাপের ট্রফিটি স্পেনের হাতেই উঠুক।’

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, ‘একজন আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে দলকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। স্পেন অনেক শক্তিশালী দল। তাই মেসিদের জয়টা খুব সহজ হবে না। কিন্তু এবারের আসরের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা যেভাবে কামব্যাক করেছে সেটাই ভরসা যোগাচ্ছে।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল আলম বলেন, আর্জেন্টিনা নিঃসন্দেহে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের ধারাবাহিকতা, কৌশলগত শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় ছিল আরও পরিণত। বড় ম্যাচে তাদের রক্ষণ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট আলাদা করে নজর কেড়েছে। তাই আমার বিশ্লেষণে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা স্পেনেরই বেশি।’

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘স্পেনের শক্তি শুধু তারকানির্ভর নয়, পুরো দলের সমন্বয়, বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার ঐতিহ্যই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত শৃঙ্খলাই স্পেনকে এগিয়ে রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। একজন স্পেন সমর্থক হিসেবে আমার প্রত্যাশা- দল যেন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারে এবং সেরাটা দিয়ে শিরোপা জয়ের লড়াই উপহার দেয়।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাশরাফি রহমান নিতু বলেন, ‘ওয়ার্ল্ডকাপ ফাইনাল মানেই কোটি কোটি মানুষের চরম উত্তেজনা, তীব্র টেনশন আর আবেগের এক মহা মিলনমেলা। এটা শুধু একটা খেলা নয় বরং বিশ্বের সেরা দুই দলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত লড়াই। মাঠের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর শেষ মুহূর্তের সাসপেন্স পুরো পৃথিবীকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে। দিনশেষে যে দলই জিতুক না কেন, এই ট্রফি জয়ের আনন্দ আর ইতিহাস গড়ার মুহূর্তগুলো আজীবন ক্রিকেট ও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকে।’
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আশা রহমান বলেন, ‘হৃদয় বলছে স্পেন। কারণ তারা শুধু ম্যাচ খেলে না, নিজেদের ফুটবল দর্শনও খেলায় ফুটিয়ে তোলে। সামনে আর্জেন্টিনার মতো দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ, তাই কাজটা সহজ হবে না। তবে স্পেন যদি মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং সুযোগগুলো কাজে লাগায়, তাহলে শিরোপা জেতার যথেষ্ট সামর্থ্য তাদের আছে। ভামোস এস্পানিয়া!’
যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী হীরা রহমান বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। অসাধারণ পারফরম্যান্স- সবমিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচই ছিল উপভোগ করার মতো। এবার সেই বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের পালা। স্পেন ও আর্জেন্টিনা- বর্তমান সময়ের দুই শক্তিশালী দল। একটি দলকে এগিয়ে রাখা সত্যিই কঠিন। নিঃসন্দেহে এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ। আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেনও নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিটি ম্যাচে। তবে একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক হিসেবে আমার একটাই চাওয়া- বিশ্বকাপটা যেন আবারো আর্জেন্টিনার হাতেই ওঠে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার বলেন, ‘স্পেন পুরো বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এমনকি ফ্রান্সের এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও অলিসের মতো তারকাদেরও গোলের সুযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। তাই ফাইনালটা অনেকটাই নির্ভর করবে দুই দলের কৌশলের ওপর। স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগের বিপরীতে থাকবে আর্জেন্টিনার নিরলস আক্রমণ। বিশেষ করে ৮০ মিনিটের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলাতে পারাটাই স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্ণব চৌধুরী বলেন, ‘আমি খুব একটা নিয়মিত খেলা দেখি না। তবে ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই কেন যেন একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ দেখেছি। চার বছর পর পর পুরো পৃথিবী যেন একই আবেগে মেতে ওঠে। তবে গতবারের মতো এবারো, আর্জেন্টিনা যেহেতু ফাইনালে উঠেছে এবং বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক প্রচুর, এটি নিয়ে অন্যরকম আমেজের সৃষ্টি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।’

ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা রায়হান নিবিড় বলেন, ‘মিড কন্ট্রোল নিয়ে ম্যাচ কন্ট্রোলে পারদর্শী দুই দলের ফাইনাল এটি। যেখানে স্পেনের এডভান্টেজ ফাস্ট ট্রানজিশন এবং আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন একসঙ্গে একটা টিম হিসেবে খেলা আর্জেন্টিনাই আমার বাজির ঘোড়া। কারণ যেকোনো অঙ্ক মিলিয়ে দেয়ার জন্য সেখানে মেসি নামের এক জাদুকর আছেন। আমার প্রেডিকশন: আর্জেন্টিনা ২-১ স্পেন।’
অভিনেতা মাসুম রেজওয়ান বলেন, ‘মেসি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেরা খেলোয়াড়টি হয়তো এবারো বিশ্বকাপ জিতে নিবে।

শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুধু একটি ট্রফির জন্য নয়, ইতিহাস, গৌরব এবং কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্নের জন্য লড়াই হয়। এবার মুখোমুখি হচ্ছে পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ও পরিণত ফুটবল খেলে ফাইনালে ওঠা দু’টি দল। একজন সমর্থক হিসেবে আমার প্রত্যাশা অবশ্যই আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতুক। পাশাপাশি আমি চাই, বিশ্বকাপের ফাইনালটি যেন বিশ্ব ফুটবলকে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দেয়।’

শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোর্শেদা হোসেন মুক্তা বলেন, ‘এই ফাইনাল তাই শুধু একটি শিরোপার লড়াই নয়; এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ফুটবলের সৌন্দর্য, উত্তরাধিকার ও স্বপ্নের প্রতীক। এক প্রান্তে লিওনেল মেসি একটি যুগের নাম, অসংখ্য স্বপ্ন পূরণের গল্প, ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত মহাকাব্য। অন্য প্রান্তে লামিন ইয়ামাল একটি নতুন সূর্যোদয়, যার পথচলা মাত্র শুরু। যার চোখে ভবিষ্যতের অগণিত সম্ভাবনা।’