Image description
নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর সাভার

অবৈধ সংযোগই গিলে খাচ্ছে দেশের মূল্যবান সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস। তিতাস গ্যাস সূত্রমতে, বছরে তিতাসের সিস্টেম লস গড়ে ৯  থেকে ১০ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস বিতরণে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস অনুমোদন করে। অর্থাৎ তিতাসের ৭ থেকে ৮ শতাংশ গ্যাস অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চুরি হয়। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ এর  পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায় আবাসিকে প্রতিটি অবৈধ সংযোগ দিতে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। আর শিল্পকারখানায় সংযোগে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ঢাকার আশপাশের এলাকায় নিয়মিত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হলেও রাতের আঁধারে তা পুনর্¯’াপন করে  দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া দালালদের আশ্রয়দাতার পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, নামধারী বিএনপি নেতা-কর্মী, তিতাস গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংস্থাটির তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারের সহযোগী ওয়েল্ডার ও ফিটার এ অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত। স্থানীয়ভাবে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অফিস সহকারী মাসুদুল করিমের বিরুদ্ধে দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির দাবি, তিতাস কর্মচারী মাসুদুল করিমের দালাল চক্রে রয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় রুবেল, ভূমিপল্লী ও হীরাঝিল এলাকায় মনির হোসেন মনির, মিজমিজি ও  মৌচাক এলাকায় রনি, এনায়েতনগর এলাকায় সাইফুল ইসলাম জজ, আনোয়ার কাজী ও নুর আলম কাজী এবং কদমতলী এলাকায় জহির, আনোয়ার, সাইদুল ওরফে ছাদু, ইয়াকুব, জীবন ও সোহাগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি চুলা সংযোগে প্রায় ১ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়। একাধিক সংযোগের ক্ষেত্রে আরও  বেশি অর্থ নেওয়া হয়। সংযোগের পর মাসিক ভিত্তিতেও টাকা আদায় করা হয়। টাকা দেওয়া বন্ধ হলে অভিযান পরিচালনার নামে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ব্যাপারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে তিতাসের লোকেরা সংশ্লিষ্ট না থাকলে এ অবৈধ কাজ অন্য কারও পক্ষে করা সম্ভব নয়।

এ ধরনের দ নীয় অপরাধে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িয়ে আছে, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না এবং রাষ্ট্র তাদের কাছে অসহায় ও জিম্মি হয়ে যাবে, এটা বড় ধরনের অস্বাভাবিক অবস্থা। সাধারণ কোনো প্রতিক্রিয়া, পরামর্শ বা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রাষ্ট্র এখানে অসহায়ত্বের পরিচয় দিচ্ছে, সরকার বদলাচ্ছে কিন্তু পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের কাছে এটি উদ্বেগের ব্যাপার। তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ তার সংস্থার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবৈধ গ্যাস সংযোগে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিতাস গ্যাসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত, এ কথা অস্বীকার করছি না। চলতি জুলাই মাসেই এই অপরাধে তিতাসের চারজন স্টাফ কর্মকর্তা এবং দুজন অফিসারকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্টাফ কর্মকর্তারা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। 

তিনি বলেন, আমরা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের লোকবল স্বল্পতা আছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আমাদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি। তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাসে মোট ২ হাজার ৫২৪টি স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৪৬টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাদের মতে, অবৈধ গ্যাস সংযোগের নিয়ন্ত্রণ এখন একেবারে রুট লেভেলে  পৌঁছে গেছে। স্যানিটারি মিস্ত্রি, যারা পানি সরবরাহের পাইপ স্থাপনের কাজ করে, তারাও এখন গ্যাসের আবাসিক সংযোগ থেকে অবৈধ সংযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় অসাধু মহল অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অবৈধ কর্মকান্ডে র সঙ্গে যুক্ত।

তিতাসের ভিজিল্যান্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সাদাৎ মো. সায়েম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেখা যাচ্ছে এই অবৈধ সংযোগ বারবার কাটলেও তা দ্রুত লেগে যায়। আট-দশবার করে একেকটি লাইন বিচ্ছিন্ন করার পরপরই আবার অবৈধ সংযোগ দিয়ে দিচ্ছে একই চক্র। এ লাইন নেওয়া খুব সহজ, আর খুব ব্যয়বহুলও নয়। এখন প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে অনেকে অবৈধ সংযোগ নিচ্ছে। এজন্য অবৈধ সংযোগ নিতে গ্রাহকদেরও খুব একটা গায়ে লাগছে না। তিনি বলেন, তিতাসের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এ অবৈধ কাজ করছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে রাত ২টা-৩টার দিকে এই অবৈধ সংযোগ দেওয়ার কাজ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় কোটিপতি ৩০ দালাল : নারায়ণগঞ্জে গ্যাস অফিসের বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে প্রতিটি পাড়ামহল্লায় প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রতিটি সংযোগ  থেকে দুই-তিন লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এরপর প্রতি মাসে চুলাপ্রতি  দেড় থেকে ২ হাজার টাকা স্থানীয় দালালরা আদায় করেন। বিভিন্ন কলকারখানায় বৈধ সংযোগের সঙ্গে অবৈধ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। আবার অনেক কারখানা  থেকে এর চেয়ে কয়েক গুণ টাকা আদায় করে থাকেন দালালরা। এদের নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলেই সেসব বাসা বা কারখানায় চালানো হয় অভিযান। সম্প্রতি শনাক্ত করা ৩০ দালালের নাম পাওয়া গেছে। এরা গ্যাস চুরি করে কোটিপতি বনে গেছেন। দালালদের মধ্যে রয়েছেন শহরের গলাচিপার কসম কামাল, তার ভাই সোহেল, সুমন, বেসলাইট  সোহেল, চাষাঢ়ার রিংকু, ডনচেম্বারের আনু, কায়েমপুরের সুমন, লামাপাড়ার রবি, সানাল, পঞ্চবটীর বেকারি সুমন, বেকারি সাইদ ও রাজ, নয়ামাটির হানিফ, মিশনপাড়ার বাগান দুলাল, জামলাতলার সামসুল মিয়া, পাইকপাড়ার শিপলু, দাপা আদর্শ স্কুল এলাকার সেন্টু, কাঠেরপুল এলাকার জুয়েল, লুঙ্গি দুলাল, পাগলা এলাকার সাইফুল,  গোদনাইলের রিংকু আক্তার ও রুমা আক্তার, তল্লার রনি, কাশিপুরের মহিউদ্দিন, ইসদাইরের কাইল্লা সোহেল, সস্তাপুরের দরবেশ  মোজাম্মেল এবং পূর্ব নয়ামাটি ইসলামনগরের আশোক আলী ও জনি।

রূপগঞ্জে ২০ হাজার অবৈধ সংযোগ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিতাসের এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগের রমরমা ব্যবসা। গোটা উপজেলায় ২০ হাজার অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব সংযোগ থেকে তিতাসের কতিপয় কর্মকর্তা মাসে প্রায় কয়েক কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন করছে বলে তিতাসেরই কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ ছাড়া অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও দেওয়া হচ্ছে এ অবৈধ সংযোগ। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও কোনো কোনো এলাকায় পুনরায় অবৈধ সংযোগ লাগানো হচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগে লেনদেন হয় ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। এ চক্রে আছেন সরকারদলীয় স্থানীয়  নেতারা। বর্তমানে উপজেলার রূপসী কলাবাগান, যাত্রামুড়া, মোগড়াকুল, পবনকুল, বরপা, আতলাশপুর, হাটাবো, মাঝিপাড়া, ছোনাবো, কাউয়াবাড়ী, গোলাকান্দাইল ৫ নম্বর ক্যানেল, নতুন বাজার, হোড়গাঁও, কালাদি, পূবেরগাঁও, শিংলাব, আমলাবো, কালি, মঙ্গলখালী, মাছিমপুর দড়িকান্দিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ আছে। কোনো এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করলে লাখ টাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে চক্রগুলো।

সোনারগাঁয়ে কারখানায় অবৈধ সংযোগের রমরমা বাণিজ্য : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আবাসিক এলাকায় চুনা ও ঢালাই কারখানায় গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫টি চুনা কারখানা এবং ১০টি লোহা গলানোর ঢালাই কারখানা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকার  কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পিরোজপুর এলাকায় নিয়ামত উল্লাহ প্রধান ও শফিউল আলম বাচ্চুর বিরুদ্ধে আবাসিক ও চুনা কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে প্রতিটি সংযোগ থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মেঘনা শিল্পাঞ্চলের ঝাউচরে বাবু ও আবুল কাসেম, সাদিপুরে রিপন সিকদার, মামুন সিকদার, রেজা মোল্লা এবং নানাখি গোলনগরপাড়া-পঞ্চমীঘাট এলাকায় দুলাল, রফিকুল ইসলাম ভূইয়া ও তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্যাসের অবৈধ সংযোগে চুনা কারখানা পরিচালনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, পৌর এলাকার কৃষ্টপুরা গ্রামের রাসেল মিয়া ও ভবনাথপুর গ্রামের আমির হোসেনের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে আবাসিকেও গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নামধারী বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

গাজীপুরে প্রভাব খাটিয়ে কারখানায় সংযোগ : গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াশিং, ডাইংসহ বিভিন্ন কারখানা চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগে। একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, অসাধু কারখানা মালিকরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং বিভিন্ন  টেকনিশিয়ানদের সহযোগিতায় রাতের আঁধারে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, শ্রীপুর, গাছা, পুবাইল ও টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পথে গ্যাস সংযোগ নিচ্ছেন। 

সাভার-আশুলিয়ায় বৈধ গ্রাহকদের চুলা জ্বলে না : সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই শিল্পাঞ্চল এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের এক বিশাল ও শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে। আর এই অবৈধ সংযোগের সরাসরি প্রভাব পড়ছে লাখ লাখ বৈধ গ্রাহকের ওপর। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও দিনের পর দিন লাইনে গ্যাস পাচ্ছেন না সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ার বিশাল একটি এলাকা জুড়ে রয়েছে পোশাক কারখানাসহ নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া ধামরাইয়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য আবাসিক এলাকা। এসব এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে রাতের আঁধারে লাখ লাখ অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং তিতাসের মাঠপর্যায়ের কিছু দালালের সমন্বয়ে এই অবৈধ গ্যাস বাণিজ্যের  নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। একেকটি অবৈধ আবাসিক সংযোগের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী বৈধ গ্রাহকদের দাবি, শুধু নামমাত্র পাইপ কেটে উচ্ছেদ অভিযান চালালেই এই সংকট মিটবে না। অবৈধ সংযোগের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মোবাশ্বির হক শ্রাবণ, সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা, সোনারগাঁ প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম, টঙ্গী প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম আফজাল, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম হানিফ)