Image description

২য় দিনের মতো আন্দোলন করেছেন এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা দুইভাগে ভাগ হয়ে যান। একপক্ষ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি বাদ দিয়ে ৬ দফা দাবি জানান। আরেক পক্ষ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা গতকাল ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’- কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ আটকে দেয় লংমার্চ। এরপর শিক্ষার্থীরা ৬ দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের আরেকপক্ষ শাহবাগে অবস্থান নেন। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের কয়েকটি স্থানে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন হয়। বুধবার সংসদে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা না দিতে পারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান।

এদিন পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’- পালন করেন একপক্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা দুপুরে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরে নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন তারা।

তবে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে যান। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। সেখানে তারা স্ল্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। তারা সাংবাদিকদের মারধরও করেন। আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খল একটি অংশ সাংবাদিকদের মারধর করেন। এরপর একপক্ষ আন্দোলন থেকে সরে যান।

পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে শিক্ষা ভবনের সামনে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পুনরায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করা, পুনঃপরীক্ষার ক্ষেত্রে দুই পরীক্ষার মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরকে চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা, প্রশ্নপত্রে ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর প্রদান, চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়ে পরীক্ষা নেয়া, পূর্বঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি মূল্যায়নে বিবেচনা করা এবং ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকদের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করা।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী আরেকটি অংশ সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ই জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা আন্দোলন স্থগিত করেন।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বার্তায় শিক্ষামন্ত্রীর বরাতে জানানো হয়, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার পাঁচটি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা পরে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথম পত্রের দু’টি ভুল প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেয়া হবে এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩ই জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া সেদিনের পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে দু’টি সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল থাকার অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘আপত্তিকর’ শব্দে সম্বোধন করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিত এবং পুনঃপরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী সংসদে আপত্তিকর শব্দে সম্বোধন করার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।