Image description

বাংলাদেশে এসে বিয়ের নামে প্রতারণার শিকার না হতে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে চীনা দূতাবাস। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড উইচ্যাট অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

দূতাবাস জানিয়েছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিক বাংলাদেশে এসে বিয়েসংক্রান্ত আইনি ও আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। তাই এই সংক্রান্ত ইস্যুতে বাংলাদেশ সফরে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনলাইন ম্যাচমেকিং বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা না দিতে আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মানবপাচার এবং বাল্যবিয়ে রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে কোনো বিদেশি নাগরিক যদি অন-অ্যারাইভাল বা স্বল্পমেয়াদি ভিসায় বাংলাদেশে এসে পাত্রীর পরিবার কিংবা স্থানীয় সামাজিক প্রতিনিধির অজান্তে বিয়ে করেন, তবে ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁর কাগজপত্র কঠোরভাবে যাচাই করবে। এছাড়া পাত্রীর আগে বিয়ে হয়ে থাকলে এবং দেশত্যাগের কারণ স্পষ্ট করতে না পারলে অথবা পাত্র-পাত্রী কীভাবে পরিচিত হয়েছেন তার সঠিক প্রমাণ দিতে না পারলে তদন্তের স্বার্থে পাত্রীকে সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন বা বিমানবন্দর পারাপার (ক্লিয়ারেন্স) করিয়ে দেওয়ার দাবি করা অবৈধ দালালচক্রের ফাঁদে পা না দিতে সতর্ক করেছে দূতাবাস। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কেউ ঘুষ দাবি কিংবা দালালের দৌরাত্ম্য দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সময়, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ফ্লাইটের নম্বর লিখে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও একই সঙ্গে চীনা দূতাবাসে রিপোর্ট করার অনুরোধ করা হয়েছে।

চীনা দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের ইলেকট্রনিক অ্যাপোস্টিল বা আইনি সনদ যাচাইয়ের একমাত্র সঠিক ওয়েবসাইট হলো apostille.mygov.bd। যদি কিউআর কোড স্ক্যান করার পর কোনো অস্বাভাবিক ডোমেইন বা ডটকম (.com) জাতীয় ডোমেইন আসে, তবে তা জাল বা ভুয়া হিসেবে গণ্য হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিয়ে পারস্পরিক সম্মতি ও আবেগের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অর্থের বিনিময় কিংবা কোনো ধরনের অবৈধ স্বার্থে বিয়ে করতে গিয়ে জিম্মি, চাঁদাবাজি ও আইনি ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। একইসঙ্গে কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে বাংলাদেশ পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।