টানা তিন ঘণ্টার বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কেন্দ্রের পরবর্তী সব পরীক্ষা ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুঃখপ্রকাশ করে এসব কথা বলেন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে আহসান পারভেজ বলেন, ‘২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে মোট ১৯৩টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে সোমবার (১৩ জুলাই) অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় সাময়িক দুর্ভোগের মুখে পড়েন। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, কলেজ ক্যাম্পাসে চলমান নির্মাণকাজের মালামাল এবং প্রবেশপথে তৈরি হওয়া গর্তের কারণে একজন পরীক্ষার্থী পানিতে পড়ে যান। পরে তার অভিভাবক শুকনো কাপড় নিয়ে এলে তিনি স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে সক্ষম হন এবং নির্ধারিত পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলেও জানান শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনকে অবহিত করার পর তাদের গাড়ি, নৌকা ও ভ্যানের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের পিকআপভ্যান ব্যবহার করেও পরীক্ষার্থীদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। বোর্ডের চার জন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃষ্টিজনিত কারণে বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সময় নষ্ট হওয়া পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।’
আহসান পারভেজ আরও বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষার বাকি অংশ ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের দ্রুত অবহিত করতে নোটিশও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টিজনিত এই সাময়িক দুর্ভোগের জন্য আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করছি আমরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সতর্ক থাকবো।’
তবে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু কনটেন্ট নির্মাতা বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‘জরুরি সভা থাকায় ঢাকায় যেতে হয়েছে আমাকে। তাই এ বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা নেই আমার। সংবাদপত্র পড়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পানি উঠার পরও ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে যদি কারও অবহেলা থাকে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো এবং মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানাবো।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন প্রমুখ।
এর আগে সন্ধ্যায় পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে, সিম্পলি আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’