রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া পরিবেশবান্ধব ‘ই-কার’ সেবা গত তিন মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গত এপ্রিলের মধ্যে সেবাটি পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) ১৫টি ই-কার চালুর ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে ৫টি গাড়ি চালু করা হয়। তবে চালকদের লোকসান, আশানুরূপ আয় না হওয়া, ভাড়া নিয়ে জটিলতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহে সেবাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহীতে ই-কার মেরামতের সুবিধা না থাকাও এর অন্যতম কারণ।
সেবাটি বন্ধ হওয়ার পর রুয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল যে, এবার ভাড়ার পরিবর্তে সরাসরি গাড়ি কিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের অধীনে এটি চালানো হবে। গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে ৪ এপ্রিলের মধ্যে সেবাটি চালুর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ রাফিন আহমেদ বলেন, যে কোনো সেবা চালু করা যতটা সহজ, সেটিকে টেকসইভাবে পরিচালনা করা তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র চার মাসের মাথায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতিকে নির্দেশ করে।
তিনি আর জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এ ধরনের সেবা নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হয়, তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তা না পারার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারিগরি ত্রুটি, চার্জিং স্টেশন বা স্পেয়ার পার্টসের কোনো সমস্যা থাকলে তা এত দিনে সমাধান করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফুয়াদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, রাকসুকে কেন্দ্র করে একটি মুখরোচক নির্বাচনি প্রকল্প হিসেবে ই-কার সেবা চালু করা হয়েছিল। শুরু থেকেই এ সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর চাহিদার তুলনায় ই-কারের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি উদ্যোক্তাদের লোক দেখানো উদ্যোগ ও দায়সারা মনোভাবেরই প্রতিফলন।
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এশিয়া পোস্টকে বলেন, ই-কার সেবা চালু বা বন্ধের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয়। এ বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ই-কার চালুর বিষয়ে রুয়ার সঙ্গে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও কথা বলিনি। এর আগে এ বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
ই-কার বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা না জেনে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা নিজেদের গাড়িই ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছি না। তাই এর খরচ ও সুবিধা বিবেচনা করে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কীভাবে এটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে এবং পরিচালনার সক্ষমতা কেমন হবে, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রুয়ার সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজাম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ই-কার চালুর বিষয়ে আগের প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এটি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চাই। উপাচার্য পরিবর্তনের পর তৎকালীন উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান এ বিষয়ে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আগের উপাচার্য চলে যাওয়ায় নতুন উপাচার্যের অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সঙ্গে এ বিষয়ে এখনো সাক্ষাৎ করা হয়নি। আমরা ই-কার দেখেছি এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলেছি। যেহেতু এটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা হবে, তাই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।