Image description

কক্সবাজারের উখিয়ায় গোয়েন্দা সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, মিথ্যা মামলা দায়ের ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নূরুল আমিন নামের এক ভুক্তভোগী।

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, উখিয়ায় কর্মরত গোয়েন্দা সদস্য মতিউর রহমান তাকে শারীরিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক এবং হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।

 

তিনি বলেন, ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিনা অপরাধে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমাকে এবং আমার ছোটবোনের স্বামী খামারের পাহারাদার জানে আলমকে আটক করেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন। তারা মুখে কাপড় বেঁধে পিটিয়ে আমার কাছে অস্ত্র পেয়েছে বলে স্বীকারোক্তি নিতে চাপ প্রয়োগ করেন।স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় দফায় দফায় মারধর করে।

 

তিনি দাবি করেন, স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় আমাদেরকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র ও একশত কার্তুজ দিয়ে মামলা করে থানায় হস্তান্তর করে। এরপর আমি আমার গাড়ি ও গরু বিক্রি করে তিনমাস জেল খেটে জামিনে বের হই।

 

সংবাদ সম্মেলনে পবিত্র কুরআন হাতে নিয়ে শপথ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক। এসব অস্ত্র আমার কাছে পায়নি।

 

নূরুল আমিন বলেন, আমার বাড়ির সংলগ্ন পথে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার করে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। কিন্তু আমার গরুর খামারের কারণে ইয়াবা পাচারে তাদের অসুবিধা হয়। তাই তারা খামারটি সরিয়ে নিতে আমাকে বহুবার চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যাযে ওই মাদক কারবারিদের পক্ষ নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মতিউর রহমানও আমাকে খামার সরিয়ে নিতে চাপ দেয়। আমি সরাইনি।

 

তার দাবি, মতিউর রহমান মাদক কারবারে জড়িত। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের আটক করে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। পরে সেনাবাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিপুল অস্ত্র দিয়ে সংস্থাটির হাতে হস্তান্তর করে।

 

তার অভিযোগ, সহায় সম্পদ বিক্রি করে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়েও ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। আবারও আমার পিছু লেগেছে।

 

তিনি বলেন, ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবারো আমাকে ইয়াবা ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেয়। আটক করে কঠিন নির্যাতন ও অস্ত্র-মাদক দিয়ে মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে পঁচানোর হুমকি দিচ্ছে।

 

এব্যাপারে তিনি গোয়েন্দা সংস্থা, প্রশাসন ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তারা খোঁজ নিয়েছেন। ওই ব্যক্তি তাদের সংস্থার সদস্য নন।

 

তিনি আরো জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন উখিয়ার পালংখালী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সুযোগে মাদক কারবারিদের সাথে তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তার একটি মোটরসাইকেল আছে। সেই মোটরসাইকেল দিয়েই তিনি মাদক কারবারিদের সহায়তা করেন।

 

এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত গোয়েন্দা সদস্য মতিউর। তার দাবি, তিনি গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারেন, কাউকে আটক বা নির্যাতন করতে পারেন না।