Image description

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজধানী। দুর্ভোগে নগরবাসী। তবে ভ্রাম্যমাণ রিকশা গ্যারেজে ভিন্ন চিত্র। জলাবদ্ধ সড়কে রিকশা বিকল হওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসত নেই মেকানিকদের। গ্যারেজগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের সুযোগ।

তেজগাঁও শিল্প এলাকার কয়েকটি গলির রাস্তার পাশে স্থায়ী কোনো দোকান ছাড়াই বসে এসব ভ্রাম্যমাণ গ্যারেজ। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে রাস্তার পাশেই রিকশার বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করেন মেকানিকরা। কোনো রিকশা বিকল হলে চালকেরা সরাসরি এসব গ্যারেজেই চলে আসেন। কোনো কোনো গলির দুই পাশেই সারিবদ্ধভাবে নষ্ট রিকশা অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

মেকানিকদের ভাষ্য, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে রিকশার সাসপেনশন, চাকা, ব্রেক ও বডিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পানির নিচে থাকা গর্ত চোখে না পড়ায় রিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি।
‘ভাঙাচোরা রাস্তার গর্ত পানির নিচে ঢেকে থাকায় চালকেরা তা বুঝতে পারেন না। ফলে চাকা গর্তে পড়ে রিকশা নষ্ট হয়। বৃষ্টির সময় এমন ঘটনা অনেক বেড়ে যায়’— বললেন মেকানিক মঞ্জু মিয়া।

প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় রিকশার চাকার বেয়ারিং ঠিক করছিলেন মঞ্জু মিয়া। রিকশাটি নিয়ে এসেছিলেন চালক বাবু। তিনি জানান, ‘আগের দিন সন্ধ্যায় মিরপুরে এক ঘণ্টা ২০ টাকা করে ‘পানি পার’ করার কাজ করছিলেন। পরে একজন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় ছোট একটি গর্তে পড়লে চাকা বেঁকে যায়। তাই রিকশাটি মেরামতের জন্য তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট জামে মসজিদসংলগ্ন ভ্রাম্যমাণ গ্যারেজে নিয়ে এসেছেন।

 

 

এসব গ্যারেজে একটি চাকার বেয়ারিং ঠিক করতে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। অন্য ছোটখাটো ত্রুটি সারাতে খরচ হয় ৩০ থেকে ২০০ টাকা। প্রতিটি গ্যারেজে তিন থেকে পাঁচজন কর্মী কাজ করেন। আশপাশের গলি মিলিয়ে এমন ছয় থেকে সাতটি ভ্রাম্যমাণ গ্যারেজ রয়েছে।

রিকশাচালকেরা জানালেন, স্থায়ী গ্যারেজের তুলনায় এখানে কম খরচে রিকশা মেরামত করা যায়। এসব গ্যারেজের মালিকদের নিজস্ব রিকশাও রয়েছে। পায়ে চালিত রিকশা দৈনিক ১০০ টাকায় এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ৪০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হয়। নিজস্ব রিকশা মেরামতে চালকদের কোনো টাকা দিতে হয় না। গ্যারেজের মালিক মেকানিকদের দৈনিক ৫৫০ টাকা দেন। তবে বাইরের রিকশা মেরামত করে মেকানিকরা বাড়তি আয় করতে পারেন।

মঞ্জু মিয়া জানান, প্রতিদিন ৫৫০ টাকা হাজিরা পান। তবে বাইরের রিকশা মেরামত করলে অতিরিক্ত আয় হয়। গত দুই দিন ধরে বেশি রিকশা আসায় আয়ও বেড়েছে।

প্রায় সাত বছর ধরে এই পেশায় রয়েছেন মঞ্জু মিয়া। মেকানিকের কাজ করে জমানো টাকা দিয়ে তিনি এখন আটটি রিকশার মালিক। সেগুলো ভাড়া দিয়ে নিয়মিত আয় করেন। দিনের কাজ শেষে রাতে নিজেও রিকশা চালিয়ে বাড়তি উপার্জন করেন।

 

 

কথা হলো আরেক গ্যারেজকর্মী রইস আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনে মন খারাপ হয়। তবে ঢাকায় বৃষ্টির কারণে আয় বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি পান। তার ভাষ্য, আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে কাজও বাড়বে।

৪৫টি রিকশার দেখভালের দায়িত্বে থাকা হাফিজ আহমেদ উল্লেখ করেন, বর্ষাকালে রিকশা বেশি নষ্ট হয়। নিজেদের গ্যারেজের কাজ শেষ হলে কর্মীরা বাইরের রিকশাও মেরামত করেন। এতে মালিকের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং কর্মীদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং খুলনা বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা এবং তেজগাঁওয়ের এসব ভ্রাম্যমাণ রিকশা গ্যারেজের ব্যস্ততা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।