শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস মনিটরিং এবং পরিচালনা নিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। আজ সোমবার (৭ জুলাই) জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রথমে মাউশির ডিজি শিক্ষার মান উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মান কীভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে বা স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যেতে পারে...। মন্ত্রী এখানে আছেন, উনারও এ বিষয়ে ধারণা আছে। আমার ব্যক্তিগত মতামত, কারিকুলামটাকে আগে স্ট্যান্ডার্ড করতে হবে। এরপর শিক্ষা পদ্ধতি, টিচারস ট্রেনিং, টিচিং এনভাইরনমেন্ট এবং টোটাল টিচারস এবং লার্নার ইন্টার-রিলেশনশিপ। এটা আমরা যতটা হেলদি করতে পারব, যতটা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস করতে পারব, ততটা ওদের কাছে শিক্ষাটা আনন্দদায়ক হবে এবং তারা তত বেশি রিসিভ করবে।
মাউশি ডিজি বলেন, আমরা মনে করি শিক্ষকদের ট্রেনিং প্রয়োজন প্রথমে, যথাযথ ট্রেনিং। কীভাবে আসলে আমার লার্নাররা রিসিভ করে সেটা বুঝতে হবে আগে। তারপরে শিক্ষকরা আমাদের কারিকুলাম যেটি আছে, সেগুলো এডজাস্ট করছি কিনা, এই কারিকুলাম অনুযায়ী আমরা আসলে আন্তর্জাতিক লেবার মার্কেটে কমপিট করতে পারব কিনা, এটা এক্সেপ্টেবল কিনা, নাকি আবার বাইরে গিয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করতে হবে? টোটাল বিষয়গুলো যখন আমরা একটা সিংক্রনাইজড ওয়েতে নিয়ে আসতে পারব, আমি বিশ্বাস করি ইনশাআল্লাহ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একদিন মানে পৌঁছে যাবে।
তার বক্তব্যের শেষে নায়েমের ডিজি (মহাপরিচালক) প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইক নিতে এগিয়ে যান। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ‘আস্তে, আপনি নায়েমের ডিজি না?’ জিজ্ঞাসা করে বলেন, ‘আপনাকে তো আমি কোশ্চেনই করি নাই।’ এরপর তিনি মাউশি ডিজিকে প্রশ্ন করা শুরু করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি তো অ্যাবস্ট্রাক্ট কথাবার্তা বললেন। নির্বাচনী ইশতেহার, কারিকুলাম চেঞ্জ করতে হবে...। উনি ডিজি, চেঞ্জটা করবে কে? উনিই তো। উনি কি করবেন এটা বলুন।’
মাউশি ডিজি বলেন, ‘আমি সরকারের যে নীতিমালা আছে, যে নির্দেশনা আছে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে টিচারদের ট্রেনিং যথাযথভাবে হয়, যথাসময় হয় এবং প্রত্যেকের কাছে শিক্ষাটা পৌঁছতে পারল কিনা সেটা নিশ্চিত করব। মনিটরিং অ্যান্ড সুপারভাইজেশন আমরা নিশ্চিত করব। ফার্স্ট হচ্ছে টিচারদের, প্রত্যেক টিচারের একটা ট্রেনিং নিশ্চিত করতে হবে। ক্লাসরুমে যাওয়ার আগে তারা যাতে প্রপার যে...।’
এ সময় ‘প্রি-ট্রেনিং’-এর কথাও বলেন মাউশি ডিজি। তিনি বলেন, ‘সার্ভিসে যাওয়ার আগে প্রি ট্রেনিংটা আছে, এটা যদি নিশ্চিত করতে পারি, আমরা অবশ্যই শিক্ষার মানটা আরো ডেভেলপ করতে পারব। এই মুহূর্তে আমাদের প্রি-ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নাই। আমরা সুপারিশ করব এটা করার জন্য। আদারওয়াইজ বর্তমান যে ব্যবস্থা আছে, তাতে আমরা চেষ্টা করব।’
তার এমন বক্তব্যের পর শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ডিজি। আমরা এখানে টিচাররা আসছি। ধরেন আমি কচুয়া কলেজের টিচার। আমার কলেজের টিচার, স্টাফ সবার জন্য আপনি কী করেছেন? চার মাস হয়ে গেল।’
মাউশি ডিজি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আপনার নির্দেশনায় আমরা চেষ্টা করেছি যে, আসলে তো আমাদের শিক্ষক সবই আছে। আমরা জানি...।’ শিক্ষামন্ত্রী আবারও জিজ্ঞাসা করে বলেন, ‘আসলেই আছে। তবে সেটার জন্য আপনি কী ব্যবস্থা করেছেন?’
ডিজি আবারও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই গত পরশুদিনও আমরা দুই দফা পিএসসি চেয়ারম্যান এবং সচিবের সাথে মিটিং করেছি। লাস্ট গত সপ্তাহে ফোন কলে ওনার সাথে যেটি কথা হয়েছিল, আমরা চাহিদা দেব শূন্যপদে। সে শূন্যপদের চাহিদা অনুযায়ী উনি স্পেশালভাবে হলেও আমাদের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করবে। আপনার নির্দেশনা যেদিন পেয়েছি, পরশুদিন, ওদিন বিকেল বেলায় আমরা সরকারি মাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়ে যে শূন্য পদ আছে, সাবজেক্টভিত্তিক টোটাল তালিকা পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় গতকাল সেটি পিএসসিতে পাঠিয়েছে। এখন আমরা আবার কানেক্ট করার চেষ্টা করছি, উনারা কবে নাগাদ প্রক্রিয়া শুরু করবে নিয়োগের।’
শিক্ষামন্ত্রী তাকে আবারও প্রশ্ন করেন, ‘এখন টিচাররা ক্লাসরুমের ভিতরে ক্লাস করছে কিনা এটা মনিটরিং আপনি কিভাবে করেন?’ এর জবাবে ডিজি ‘আমরা দিকনির্দেশনা দেই’ বললে মন্ত্রী আবারও প্রশ্ন করেন, ‘মনিটরিংটা কীভাবে করেন? দিকনির্দেশনা দিলেন, ফিল্ডে কে গিয়েছে? ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি? কে? ক্লাসরুমে টিচার-স্টুডেন্ট রেশিও ঠিক আছে কিনা, টিচাররা ক্লাস কন্টাক্ট করছে কিনা, এটেন্ডেন্স ঠিক মত যাচ্ছে কিনা এটা আপনি মনিটরিং কীভাবে করেন?’
ডিজি বলেন, ‘আমাদের ফিল্ড লেভেলে দুই দফায় মনিটরিং হয়। এটা অলরেডি আছে। যেমন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, এছাড়াও আঞ্চলিক পর্যায়ে আমাদের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক, পরিচালক ওনারা আছেন। তারা র্যান্ডমলি আমাদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিজিট করেন। সে ভিজিট করে কোথায় কোন সমস্যা হচ্ছে শিক্ষকদের, ছাত্রদের অথবা প্রতিষ্ঠানটির, সেটা আমাদেরকে অবহিত করলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেই।’
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এরা তো কলেজ। এদেরটা?’ ডিজি বলেন, ‘এরই আওতায় আমাদের আঞ্চলিক পরিচালক আছেন। ৮৩ অঞ্চলে আঞ্চলিক পরিচালক, তাদের পূর্ণ ক্ষমতা আছে।’
কথোপকথনের ফাঁকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নায়েমে মনিটরিং সেল স্থাপনের পরামর্শ দেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকায় বসে নায়েম তার টিচাররা ঠিকমতো ক্লাস নিচ্ছে কিনা, শিক্ষার্থীরা কানেক্ট হচ্ছে কিনা, ফাংশনাল কিনা এসব বিষয় মনিটরিং করবে।
শিক্ষামন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি নিজেও টিচার ছিলাম। আমি যখন ক্লাসে পড়াতাম, ওই ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ক্লাসরুমে স্টুডেন্টদের মধ্যে বসে থাকত। পুরোটা লেকচার শুনত এবং ইন্টারঅ্যাক্ট করত, রেসিপোকাল হত, প্রশ্ন করত, ওই চেয়ারপার্সন আইডেন্টিফাই করত আমি প্রপারলি টিচিং করছি কিনা।’
আশির দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘টোটাল ক্লাসটা ভিডিও রেকর্ডিং করা হত। তারপরে এই ক্লাসটা স্পেশাল টিম ইভালুয়েট করত যে কীভাবে আমি ক্লাস নিচ্ছি, আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কী? আমার ভার্বাল ল্যাঙ্গুয়েজ কী? আমার আই কন্টাক্ট কী? সবকিছু তারা
অ্যানালাইসিস করত। তারপর আমাদের ক্লাস নিত। এখন ২০২৬-এ ক্লাসরুম মনিটরিংয়ের জন্য মাল্টিমিডিয়া করছি। এমনকি আমরা যে পরীক্ষা নিচ্ছি, পরীক্ষার জন্য আমরা প্রত্যেকটি রুমে সিসি ক্যামেরা করেছি।’
কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমের রেকর্ডিং দেওয়া সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নও করেন ডিজিকে। তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে আপনার আন্ডারে ইনস্টিটিউটগুলোকে আমরা সিসি ক্যামেরা দেইনি কেন? প্রত্যেকটা ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা দিতে হবে। উই হ্যাভ এনাফ বাজেট। এইজন্য তো আমাকে আরেকজনের পারমিশন লাগবে না। প্রধানমন্ত্রী অলরেডি এনাফ বাজেট এলোকেট করেছেন আমাদেরকে।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম জিনিস কী? আজকে যদি আমাদের সময় লেখাপড়া করার জন্য একটা স্লেট কেনার দরকার হয়, তাহলে একটা স্লেট আমার আব্বা কিনে দিয়েছে। আজকের দিনে যদি একটা ট্যাব কেনার দরকার হয়, ধনাঢ্য পরিবারের ছেলেদেরকে ট্যাব কিনে দেওয়া হচ্ছে। তাহলে আপনার ক্লাসরুমগুলো ঠিকমত হচ্ছে কিনা, এই জন্য সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে এবং নায়েমে একটা মনিটরিং সেল থাকতে হবে। ওই রুমে ননস্টপ শিক্ষা অফিসার থাকবে এবং তারা যেকোন কলেজের যেকোন সময় যেকোন ক্লাসরুম, এখানে বসে মনিটরিং করবে। দে ক্যান কানেক্ট লাইক জুম কানেকশন। এগুলো তো আজকালকের দিনে এভ্রিবডি নোজ এবাউট দিজ।
এ সময় ঢাকা বসে ক্লাস মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা কবে নাগাদ করা হবে— এমন প্রশ্নও করেন শিক্ষামন্ত্রী। মাউশি ডিজি বলেন, ‘আমি ধরেই বলছি যে এই বিষয়টা আপনার জানা আছে, আমাদের ঢাকা শহর না, জেলা শহরেও অনেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা আছে। প্রিন্সিপাল তার রুমে বসে ক্লাসরুম মনিটরিং করে। তাদের একটা রেকর্ড থাকে। কিন্তু আপনি যেটা বলেছেন, সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেমে নিয়ে আসা, সেটা আপনাদের পরিকল্পনা আছে।
তিনি বলেন, এলএমএস একটা সিস্টেম আছে, কম্পোনেন্ট লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, এটা আমাদের ওয়েল ক্লাউডে থাকবে। সেখান থেকে আমরা সেন্টারি কন্টেন্ট করতে পারব। প্রতিটি ক্লাসরুম, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, যা যা সবাই একটা সেন্ট্রাল সিস্টেমে থাকবে। তবে এছাড়াও আমরা চেষ্টা করছি, বিশেষ করে প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থাকা দরকার। সেখানে আমরা ক্যামেরার সাথে যুক্ত করে কিভাবে একেবারে লাইভ কন্টেন্ট করতে পারি, সেটার একটা প্রক্রিয়া আমরা চিন্তাভাবনা করছি। বিশেষ করে বদলি বিষয়ক যে সফটওয়্যারগুলো হচ্ছে আমাদের, ওর মধ্যে আমরা সেশন রাখার চেষ্টা করছি।’
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, এই চিন্তা করছি জায়গায় থাকলে হবে না। আমরা কবে এটাকে এপ্লাই করব?’ জবাবে মাউশি ডিজি বলেন, ‘আমরা আশা করছি স্যার এটা এই বছরের মধ্যে প্রয়োগ করব। ছয় মাস।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই সেশনের ছেলেমেয়েরা তাইলে এটি থেকে বঞ্চিত হবে। তার মানে, আমার জার্নি স্টার্ট করতে হবে এক বছর পরে।’
মাউশি ডিজি বলেন, ‘এখন ইনস্ট্যান্ট স্যার করা যাবে যদি...।’ মন্ত্রী জিজ্ঞাসা করেন, ‘হোয়াই ইটস এ বিগ ডিল? আমাদের তো টাকার প্রবলেম নাই।
তাহলে কেন আমি আমার কলেজগুলোকে এই সিস্টেমের আওতায় এক মাস, দুই মাস বা তিন মাসে আনতে পারব না? এর জন্য তো আমার আবার গতানুগতিক পিডি, অফিস, গাড়ি— এগুলো তো লাগবে না। কারণ এগুলো ভেরি লেস কস্টলি। কলেজগুলোকে বলে দিতে হবে, স্কুলগুলোকে বলে দিতে হবে যে তোমরা এটা কর। ইফ দে ডোন্ট হ্যাভ দ্য মানি, দে উইল আস্ক দ্য মানি। আর এই সমস্ত ছোট্ট খরচ, ১ লাখ টাকার খরচ তো সেই সময় আমি ২০০১ সালে প্রতিমন্ত্রী থাকতে বলা হয়েছিল প্রিন্সিপাল এক লাখ টাকা খরচ করতে পারবে।’
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘এখন কি আমাদের স্কুল-কলেজগুলো বাথরুম ঠিক আছে? আমি এখন পরিদর্শনে যেতে পারিনি। আমি গেলে যেন ওই ওয়াশরুম প্রিন্সিপালের রুমে না যায়। আমি যখন প্রতিমন্ত্রী ছিলাম, কোন কলেজ-স্কুলে গেলে আমি অহেতুক বলতাম আমি একটু ওয়াশরুমে যাব। তো প্রিন্সিপাল সাহেব তাড়াতাড়ি উনার রুম খুলে দিচ্ছে, তালা মারা। তো আমি বলছি, ওটায় যাব না। মেয়েরা যেটা যায়, সেটা যাব। স্পেশালি মেয়েদেরটা টাইম দিতাম। এখন কি ওয়াশরুমগুলো ঠিক আছে?’
এই সময় ডিজি বলেন, ‘সকলকে বলা আছে, যাতে হয়।’ এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বলা আছে আমি শুনতে চাই না। আমি একশন চাই। কেন হান্ড্রেড পার্সেন্ট হবে না? হোয়াই নট? আপনার বাসার তো হান্ড্রেড পার্সেন্ট ঠিক থাকে। তাহলে কলেজ এবং স্কুলেরটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলো-কলেজগুলো সিসি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে থাকতে হবে এবং ক্লাসরুম রেকর্ডিং থাকতে হবে। যে সিস্টেমে হোক, এই সিস্টেম সেন্ট্রাল মনিটরিং থেকে দেখতে হবে ক্লাসরুমে ঠিকমতো করছে কিনা। কারণ পত্রপত্রিকায় লোকাল নিউজ দেয় যে প্রিন্সিপাল সাহেব আরেক জায়গায় থাকে। কেন? ওই যে নাটোরের লালপুরের যে ঘটনাটি ঘটেছে, আব্দুলপুরে যে ঘটনা হয়েছে, ওই লোককে যে আমি এরেস্ট করালাম শুক্রবারের দিন, সেই প্রিন্সিপাল তো রাজশাহীর, কিন্তু সে তো ওখানে থাকে না। আমাকে তো ইউএনও বললেন, ডিসি বললেন, এসপি বললেন, ওসি বললেন যে ওই প্রিন্সিপাল ওখানে থাকে না এটা আমাদের সকলেই বলল। আপনি কি একবার ভেবে দেখেছেন একজন প্রিন্সিপালের আটজন শিক্ষার্থীর থেকে টাকা নিয়ে গেল তার অফিস সহায়ক এবং সে জানে না? তার মানে কতটুকু রিলাক্টেন্টলি একটা প্রিন্সিপাল থাকতে পারে?