কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় পানের দোকানের ব্যাটারির এসিডযুক্ত পানি পান করে সাঈদুল আলম সামী (৪) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার কোনারপাড়ার শামসুল আলমের শিশুপুত্র ও আইডিয়াল একাডেমি অ্যান্ড হাইস্কুলের নার্সারির ছাত্র পার্শ্ববর্তী মহিমের চায়ের দোকানে গেলে পাশে থাকা পানের দোকানদার কামাল হোসেনের রাখা ব্যাটারির পানি দেন তার ভাই মো. কাজল।
এরপর সামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো সামীকে।
সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও বেসরকাদ্ভ কয়েকটা হাসপাতালে তাকে খাদ্যনালীসহ কয়েকটা অপারেশন করা হলেও শরীরের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। সর্বশেষ সোমবার দীর্ঘ আড়াই মাস পর মৃত্যুরকুলে ঢলে পড়ে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার হয়। সেখানে স্থানীয় আব্দুল জলিল বাদশা প্রাথমিকভাবে উভয়পক্ষ নিয়ে বসে চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপর সামীর পরিবার ধাপে ধাপে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না।
এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সামীর বাবা শামসুল আলম জানান, আমার ছেলেকে ব্যাটাদ্রভ (এসিডযুক্ত) পানি দিয়ে হত্যা করেছে কামাল ও তার ভাই কাজল।
তিনি বলেন, আমার পারিবারিক সম্পদ ও উপার্জনের টমটম ছিল একটা, সেটাও বিক্রি করে দিছি। অনেক মানুষ সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তার পরও কাজল আর কোন সহযোগিতা করেনি।
তিনি এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলে জানান সাংবাদিকদের।
নিহত সামীর চাচা শাহ আলম জানান, সামী বাড়ির পাশে মহিমের চায়ের দোকানে গেলে ক্ষুধা পেলে পানি খুঁজলে কামালের রাখা বোতলের ব্যাটারীর পানি খেতে দেন তার আপন ভাই কাজল। তখন থেকে রক্ত বমি করে এসিডযুক্ত ব্যাটারীর পানি খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।