Image description

ন্যাটোর ৩৬তম ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত তুরস্ক। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে রাজধানী আংকারার প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে (প্রেসিডেন্ট প্যালেস) শুরু হতে যাচ্ছে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের এ সম্মেলন। দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। তাদের স্বাগত জানাতে আংকারায় সমাগম ঘটছে হাজার হাজার কূটনীতিক, আমন্ত্রিত অতিথি ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের।

 

তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, মেগা এই আয়োজন সফল করতে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুদিনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিশ্ব নেতারা মূলত ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা, ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা রক্ষা, সামরিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, জোটের ভবিষ্যৎ কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং চলমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। সম্মেলন উপলক্ষে আগত অতিথিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এসেনবোগা, আঙ্কারা এবং মুরতেদ বিমানবন্দরকে বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

সোমবার (৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরো আংকারাজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তুর্কি পুলিশ, জেন্ডারমেরি (আধা-সামরিক বাহিনী) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের চারপাশে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

 

শুধু স্থলপথ নয়, আংকারার আকাশসীমা, প্রধান সড়ক এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুরো সম্মেলনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন মোট ৫৬ হাজার ৯২৭ জন কর্মী। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৮৪১ জন পুলিশ কর্মকর্তা, ৭ হাজার ৪৪৭ জন জেন্ডারমেরি সেনা এবং ৬৩৯ জন উচ্চপ্রশিক্ষিত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

 

প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের ভেতরে বিশ্ব নেতাদের মূল অধিবেশন কক্ষ, ভিআইপি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত জোনগুলোকে অত্যাধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। এছাড়া, প্রেসিডেন্সিয়াল ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই সম্মেলন কাভার করার জন্য আংকারায় ৮৫০ সদস্যের একটি বিশেষ মিডিয়া টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

 

পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য প্রোটোকল, নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, অনুবাদ এবং কারিগরি বিভাগে হাজার হাজার দক্ষ কর্মী দিনরাত কাজ করছেন। মূল অধিবেশনের পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বেশ কিছু পার্শ্ববর্তী (সাইড) ইভেন্টেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

 

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের মাটিতে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনটি ন্যাটোর বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।