জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিশ্বখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই আই. কান। আবার আধুনিক স্থাপত্য প্রকৌশলে অনন্য অবদান রেখে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস ও উন্নয়নের অংশীদার।
শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস আয়োজিত দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আজকের এই সঙ্গীতানুষ্ঠানও সেই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার ধারাবাহিকতা বহন করছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পরীক্ষিত। রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারত্বের প্রতিফলন। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা ‘সব মানুষ সমান’—এই আদর্শ ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষপূর্তিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ককাস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।