Image description

ড. মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম
সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান
নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (এনটিইউ), সিঙ্গাপুর

রাজনীতিবিদেরা কেন বারবার এমন দাবি করেন, যা পরে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়? কেন মনগড়া গল্প বা গুজব বহু সময় সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যের চেয়ে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যায়? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—মিথ্যাচার প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও কেন তার রাজনৈতিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে থেকে যায়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে আমাদের পরিচিত হতে হবে একটি অপেক্ষাকৃত নতুন কিন্তু আধুনিক রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণার সঙ্গে—অ্যাগনোটোলজি (Agnotology)। বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদ রবার্ট এন. প্রোক্টর প্রবর্তিত এই ধারণাটি মূলত অজ্ঞতার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে। সাধারণভাবে আমরা মনে করি, অজ্ঞতা হলো তথ্যের অভাব। কিন্তু অ্যাগনোটোলজি দেখায়, অজ্ঞতা অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হয় না; বরং সেটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা যায়। মিথ্যা তথ্য, বাছাই করা তথ্য উপস্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা, একই বক্তব্য বারবার প্রচার এবং আবেগনির্ভর প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনভাবেই অজ্ঞতা সৃষ্টি করা সম্ভব।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক মিথ্যার উদ্দেশ্য সত্য প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং লক্ষ্য থাকে জনমতকে প্রভাবিত করা, ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা। অর্থাৎ, মানুষকে চিরদিনের জন্য বিশ্বাস করানো নয়; বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হওয়ার মতো সময় পর্যন্ত তাদের বিশ্বাস ধরে রাখাই যথেষ্ট।

এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ। সে সময় বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, ইরাকের কাছে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (Weapons of Mass Destruction) রয়েছে। এই দাবির পুনরাবৃত্তি বিশ্বব্যাপী এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে সামরিক আগ্রাসনকে জরুরি ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে এমন কোনো অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ততক্ষণে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আমূল বদলে গেছে, যার অভিঘাত আজও শেষ হয়নি।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—রাজনৈতিকভাবে উৎপাদিত অজ্ঞতা যখন তার কাজ সম্পন্ন করে ফেলে, তখন সত্য সামনে এলেও সেই ক্ষতি আর পূরণ করা যায় না।

অ্যাগনোটোলজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টিগুলোর একটি হলো, মিথ্যা তথ্যের কার্যকারিতা সময়নির্ভর। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনেক সময় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নেওয়া হয়। কিন্তু সত্য উদ্‌ঘাটন, তথ্য যাচাই, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, গবেষণা কিংবা ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে লেগে যায় মাস কিংবা বছর। সত্য যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। নির্বাচন শেষ হয়ে যায়, যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, আইন পাস হয়ে যায়, মানুষের সুনাম ধ্বংস হয়ে যায়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাজনীতিতে তাই একটি মিথ্যার চিরকাল টিকে থাকার প্রয়োজন হয় না। সেটি যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হওয়ার মতো সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, তাহলেই তার কাজ শেষ।

এই তাত্ত্বিক কাঠামো সমসাময়িক বাংলাদেশের রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

 বাংলাদেশের রাজনীতি ও উৎপাদিত অজ্ঞতা: 
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন কেবল নীতি বা কর্মসূচির প্রতিযোগিতা নয়; এটি ক্রমেই বয়ান (narrative) নির্মাণের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন নাগরিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, অনলাইন পোর্টাল এবং দলীয় প্রচারযন্ত্রের মাধ্যমে সম্পাদিত ভিডিও, বিকৃত ছবি, মনগড়া উদ্ধৃতি, বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এবং আবেগনির্ভর অসংখ্য দাবির মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক সময় এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই সেগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

স্বাধীন তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনও দেখাচ্ছে, নির্বাচনী সময়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অর্থাৎ, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হচ্ছে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। এই সমস্যা কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রায় সব বড় দলই কোনো না কোনো সময়ে অতিরঞ্জিত অভিযোগ, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, বেছে বেছে তথ্য উপস্থাপন, কিংবা প্রতিপক্ষের চরিত্রহননের কৌশল ব্যবহার করেছে। ফলে অ্যাগনোটোলজিকে একটি দলের সমস্যা হিসেবে নয়; বরং আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গভীর সংকট হিসেবে দেখা উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারণা এই আলোচনার একটি উদাহরণ হতে পারে। নির্বাচন চলাকালে এবং পরবর্তীকালে বারবার প্রচার করা হয়েছে যে, জামায়াত নাকি ভোটের বিনিময়ে মানুষকে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বিচ্ছিন্নভাবে এমন মন্তব্য করে থাকলেও সেটিকে পুরো দলের পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার বক্তব্য জনসমক্ষে এসেছে। কিন্তু সেসব তুলনামূলকভাবে খুব কম আলোচিত হয়েছে।

অ্যাগনোটোলজির ভাষায় একে বলা যায় নির্বাচিত প্রচার (selective amplification)। এখানে সব তথ্য সমান গুরুত্ব পায় না; বরং এমন তথ্যই বারবার সামনে আনা হয়, যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে শক্তিশালী করে। ফলে মানুষ বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র নয়, বরং একটি বেছে নেওয়া চিত্র দেখতে শুরু করে।

আরও সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ হলো জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে সংসদে হওয়া বিতর্ক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, জামায়াতের ইশতেহারে শরিয়াহ, ইসলামী ব্যাংকিং কিংবা ইসলামী অর্থনীতির কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু প্রকাশিত ইশতেহার পড়লে দেখা যায়, এসব বিষয়ে সেখানে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। কেউ চাইলে সেই নীতির কঠোর সমালোচনা করতেই পারেন—গণতন্ত্রে সেটি স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। কিন্তু সমালোচনা হতে হবে প্রতিপক্ষের প্রকৃত অবস্থানের ভিত্তিতে, এমন একটি অবস্থানের ভিত্তিতে নয় যা তারা আদৌ নেয়নি।

অবশ্য এখানেও মূল প্রশ্ন জামায়াত নয়। মূল প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক বিতর্ক কি তথ্যভিত্তিক হবে, নাকি তথ্য বিকৃতির ওপর দাঁড়াবে?

এই জায়গাতেই অ্যাগনোটোলজি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। রাজনৈতিকভাবে উৎপাদিত অজ্ঞতা অনেক সময় সরাসরি মিথ্যা বলেই তৈরি হয় না। কখনো কখনো সত্যের একটি অংশকে সামনে এনে, অন্য অংশকে আড়াল করেও একই কাজ করা যায়। আবার কোনো বক্তব্যকে শতবার পুনরাবৃত্তি করলেও সেটি অনেক মানুষের কাছে সত্য বলে প্রতীয়মান হতে শুরু করে। মনোবিজ্ঞানে যাকে বলা হয় illusory truth effect—একটি বক্তব্য যত বেশি শোনা যায়, মানুষ তত বেশি সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, এমনকি তার পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকলেও।

ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে নীতির প্রতিযোগিতা থেকে সরে গিয়ে বয়ানের প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। কে বেশি তথ্যসমৃদ্ধ, সেটি গুরুত্বপূর্ণ থাকে না; বরং কে মানুষের আবেগকে দ্রুত স্পর্শ করতে পারে, সেটিই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম নিয়ামক।

 অজ্ঞতার রাজনীতি, গণতন্ত্রের সংকট: 
অ্যাগনোটোলজির সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এটি কেবল মানুষকে ভুল তথ্য দেয় না; বরং ধীরে ধীরে মানুষের সত্যের ওপর আস্থাই নষ্ট করে দেয়।

যখন রাজনৈতিক মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা অর্ধসত্য বারবার স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে ওঠে, তখন মানুষ আর কোনো তথ্যকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। প্রত্যেকেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী তথ্য বেছে নেয়। সংবাদমাধ্যমকে এক পক্ষের প্রচারযন্ত্র হিসেবে দেখা হয়, গবেষককে বলা হয় পক্ষপাতদুষ্ট, বিশেষজ্ঞের মতামতকে রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করা হয়। ফলে সত্যের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ই হয়ে ওঠে সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড।

এটি শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়; এটি একটি জ্ঞানগত (epistemic) সংকট। কারণ, একটি সমাজ টিকে থাকে কিছু মৌলিক যৌথ সত্যের ওপর। আদালত প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বিজ্ঞান পরীক্ষণ ও যাচাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সংবাদমাধ্যম নির্ভর করে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণও শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিসংখ্যানের ওপর।

কিন্তু যখন অজ্ঞতাকেই রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত করা হয়, তখন এসব প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিই দুর্বল হতে শুরু করে। মানুষ যদি বিশ্বাসই না করে যে সত্য অনুসন্ধান সম্ভব, তাহলে গণতান্ত্রিক আলোচনার ভিত্তিও ভেঙে পড়ে।
গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নিয়মিত নির্বাচন নয়। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি হলো, নাগরিকরা যাতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মতামত গঠন করতে পারেন। যদি জনপরিসর মিথ্যা, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ভরে যায়, তাহলে নির্বাচন নীতির প্রতিযোগিতা না হয়ে পরিণত হয় কল্পিত বাস্তবতার প্রতিযোগিতায়। যে দল সবচেয়ে কার্যকরভাবে বয়ান নির্মাণ করতে পারে, সেই দলই সুবিধা পায়—নীতিগতভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণে নয়, বরং মানুষের উপলব্ধিকে সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে প্রভাবিত করার কারণে।

এই সংকট রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে টিকাদান কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান থেকে জননীতি—প্রতিটি বিষয়ে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে রাষ্ট্রের কার্যকারিতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

 বাংলাদেশ কি এই পথে এগোতে চায়? 
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অবশ্যই পরস্পরের সমালোচনা করার অধিকার আছে। বরং শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য সমালোচনা অপরিহার্য। কিন্তু সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যনির্ভর, যাচাইযোগ্য এবং বস্তুনিষ্ঠ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য মিথ্যা, অর্ধসত্য কিংবা পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ব্যবহার করা স্বল্পমেয়াদে লাভজনক মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা পুরো সমাজকেই দুর্বল করে।

এই দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর নয়। সংবাদমাধ্যমকে তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চা গড়ে তুলতে হবে। নাগরিক সমাজকে রাজনৈতিক আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য অনুসন্ধানের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। আর আমাদের প্রত্যেকেরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে অন্তত একবার নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—এটি কি সত্য?

অ্যাগনোটোলজি আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। সমাজ কেবল মিথ্যার কারণে ধ্বংস হয় না; সমাজ ধ্বংস হয় তখন, যখন অজ্ঞতাকে পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন করা হয় এবং রাজনৈতিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়। সত্যকে যদি রাজনৈতিক সুবিধার কাছে বারবার পরাজিত হতে হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই প্রকৃত বিজয়ী হয় না। পরাজিত হয় পুরো সমাজ।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু কে সরকার গঠন করল তার ওপর নয়; বরং আমরা একটি জাতি হিসেবে সত্যকে রাজনৈতিক সুবিধার ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারি কি না, তার ওপর।

কারণ, সত্যের মৃত্যু কখনো একদিনে ঘটে না। এটি ধীরে ধীরে ঘটে—অর্ধসত্যের পুনরাবৃত্তিতে, উদ্দেশ্যমূলক নীরবতায়, বিকৃত তথ্যের প্রচারে এবং পরিকল্পিত অজ্ঞতার বিস্তারে। আর যখন একটি সমাজ সত্যকে হারিয়ে ফেলে, তখন সে শুধু একটি নির্বাচন নয়, তার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎও হারাতে শুরু করে।