Image description

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তবে এই রায়কে অপর্যাপ্ত ও ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে ব্যর্থ বলে অভিহিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করার দাবি জানায় দলটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রমাণিত অপরাধের মাত্রা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের তুলনায় এই সাজা ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

দলটির অভিযোগ, ইনু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরিক ও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন। তিনি তৎকালীন সরকারের সব গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

এনসিপি জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল জাসদ সভাপতি ইনুর অপরাধের ভয়াবহ প্রকৃতি, ভুক্তভোগীর বিশাল সংখ্যা এবং তার অপরাধের নেতিবাচক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষের উচিত এই রায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করা এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তার আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার নির্দেশের মতো কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ কেবল সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে প্রমাণিত করা যায়নি। এটি মূলত প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে। এই গুরুতর ত্রুটিগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করার জন্য দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা ও গুমের মামলাগুলোর বিচারকাজে চলমান দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি বলেছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এই দায়িত্ব পালনে দীর্ঘসূত্রতা বা গাফিলতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় ও তদন্ত সংস্থায় পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এনসিপি মনে করে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম মৌলিক ও অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব হলো জুলাই গণহত্যা ও গুমের ঘটনাসমূহের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা।