Image description

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে অন্যায়, অযৌক্তিক ও যুক্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

শনিবার (২৭ জুন) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত সরকারের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তবে বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহজভাবে নিয়েছেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, আমার কিছু যায় আসে না। আমি আমার মতোই আছি। তবে তারা যে কাজটা করেছে, সেটা অন্যায়, অযৌক্তিক এবং যুক্তিহীন। এটা করা উচিত হয়নি।

তিনি বলেন, তাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তার দীর্ঘ চিকিৎসা, শিক্ষকতা ও গবেষণা কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে। পাঁচ দশকের চিকিৎসা জীবন, অসংখ্য চিকিৎসক তৈরিতে ভূমিকা, একাধিক মেডিকেল বই রচনা এবং আন্তর্জাতিক মেডিকেল প্রকাশনায় সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

তার ভাষ্য, আমাকে তো এমনিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়নি। আমার যোগ্যতা, দক্ষতা ও অবদানের ভিত্তিতেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি কেন বাতিল করা হলো, তার ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষেরই দেওয়া উচিত।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ বাতিলের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

 

তিনি বলেন, যদি তারা মনে করে নিয়োগ বৈধ হয়নি, তাহলে আমাকে অন্তত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। আইনেরও তো একটা নিয়ম আছে।

 

সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গও ওঠে। এ বিষয়ে ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি রোগীকে রোগী হিসেবেই দেখেছেন।

 

তিনি বলেন, আমি সবার ডাক্তার। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক, কৃষক বা রিকশাচালক যেই আসুক, রোগী হিসেবে চিকিৎসা করেছি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু আমি তাকে রোগী হিসেবেই দেখেছি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শেখ হাসিনার সহযোগী বা জুলাই আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, আমি অরাজনৈতিক মানুষ। কখনো কোনো রাজনৈতিক পদে ছিলাম না। আমাকে সহযোগী বলা হলে সেটা যার যার ব্যক্তিগত মতামত।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার কোনো নির্দেশনার বিষয়ে আমি জানতাম না। কেউ যদি চিকিৎসার জন্য আমার কাছে আসত, অবশ্যই চিকিৎসা দিতাম। রোগী যে-ই হোক, তার চিকিৎসা করা আমার দায়িত্ব।

 

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তখন মোটামুটি সুস্থ ছিলেন এবং তার মানসিক দৃঢ়তাও ভালো ছিল।

ডা. আব্দুল্লাহ জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি নেপালে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে ছিলেন। দেশে ফিরে বাসায় অবস্থান করেই তিনি টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

 

বর্তমানে তিনি নিয়মিত চেম্বার প্র্যাকটিস কমিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। তবে সুযোগ পেলেই রোগী দেখেন এবং লেখালেখি ও বইয়ের নতুন সংস্করণ প্রকাশের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, যতদিন আল্লাহ সুস্থ রাখবেন, মানুষের সেবা করে যেতে চাই।