পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীককে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলো উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত কলেজ। এই ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা গেছে সংঘ পরিবারেরই দুই সংগঠন— বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বজরং দলকে।
সম্প্রতি কলেজ চত্বরে গেরুয়া উত্তরীয় পরে কয়েকজন ছাত্রের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ, ওই পোশাক পরা নিয়ে আপত্তি জানায় এবিভিপি। ছাত্র সংগঠনের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় প্রদর্শনের ক্ষেত্র হতে পারে না। সেই কারণেই গেরুয়া উত্তরীয় পরে কলেজে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করে বজরং দল। সংগঠনের প্রতিনিধিরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন তোলেন, যদি গেরুয়া উত্তরীয় পরার ক্ষেত্রে আপত্তি থাকে, তবে বোরখা বা অন্য কোনও ধর্মীয় পরিচয় বহনকারী পোশাকের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম কার্যকর হবে? তাদের বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম হলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এই ঘটনাকে ঘিরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বজরং দলের নেতা প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, গেরুয়া উত্তরীয় নিয়ে আপত্তির জেরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে যেহেতু দুই সংগঠনই সংঘ পরিবারের অংশ, তাই আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, বিতর্কিত ভিডিওটি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, এই বিষয়ে এবিভিপির আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কলেজ প্রশাসনের অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্য সরকার বা উচ্চশিক্ষা দপ্তর যে নির্দেশিকা জারি করবে, পোশাক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সেই অনুযায়ীই নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কর্নাটকে হিজাব বিতর্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যে ইউনিফর্ম নীতি নিয়ে আদালত পর্যন্ত বিষয় গড়িয়েছে। একাংশের মতে, শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার সীমিত হওয়া উচিত। আবার অন্য অংশের যুক্তি, সংবিধান ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজস্ব পরিচয় প্রকাশের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
শিক্ষাবিদ মনসুর আহমেদের মতে, কলেজে ছাত্রদের প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষার্থী হিসেবে। তবে কোনো নিয়ম প্রণয়ন করতে হলে তা অবশ্যই বৈষম্যহীন ও সবার জন্য সমান হতে হবে।