গাইবান্ধার সাঘাটার বোনারপাড়ায় সাইফুল্লাহ নামে এক শিবির নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের বিরুদ্ধে।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথায় এ ঘটনা ঘটে। সাইফুল্লাহ বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। অভিযুক্ত মুকুল একই ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মাহাবুর রহমান নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুকুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী।
স্থানীয়রা জানান, সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যায়। ১০ মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফসহ ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করে। এসময় ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তার ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা জানান, ঘটনার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম জড়িত।
সাঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনার সঙ্গ জড়িতরা যে দলেরই হোক ছাড় নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা বিএনপি সব ধরনের সহযোগীতা করবে।
বোনারপাড়া পাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম জানায়, আমরা ঘটনাস্থালে আছি। তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।