Image description

গত বছরের ন্যায় এবারও কলেজে (একাদশ শ্রেণি) এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাড়তি ঝামেলা এবং সময় বাঁচাতে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দিকে হাঁটছে সরকার। শুধু তাই নয়; পূর্বের নিয়মে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তাব করতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সমন্বয় কমিটি। চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

কোন পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে সে বিষয়ে রূপরেখা নির্ধারণে বৈঠকে বসেছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শক সমন্বয় কমিটি। রবিবার বেলা ১২টায় ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রতিনিধি ছাড়াও ৯টি শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে জিপিএর ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেই পদ্ধতিই বহাল রাখার পক্ষে নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন পরিদর্শকরা। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বিষয়ে একটি ড্রাফট প্রস্তুত করে চলতি সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সভায় উপস্থিত একটি শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘পরিদর্শকরা পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে নন। তারা চান, পূর্বে অর্থাৎ গত বছর যেভাবে জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, এবারও সেই পদ্ধতি বহাল থাকুক। ফলে পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। শিগগিরই আমরা আমাদের মতামত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠিয়ে দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন কোনো পদ্ধতির সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে হলে সময়, অর্থসহ আরও নানা বিষয় রয়েছে। এগুলো বিবেচনায় আগের পদ্ধতিতেই পরীক্ষা ছাড়া কেবল জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিবছর ভর্তির আগে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করে থাকে সরকার। সর্বশেষ ২০২৫ সালের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এ ছাড়া ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে জিপিএর ভিত্তিতে দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও ব্যতিক্রম হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেশের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সেরা কোনো প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হলে সামনের দিকে নাম আসে এসব প্রতিষ্ঠানের। এগুলো হলো— নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ।