Image description

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি সালিশ বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। অবশেষে সেই ভিডিওরই ব্যাখ্যা দিলেন হানজালা।

এমপির দাবি, দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক থামিয়ে বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি কঠোর ও ধমকের স্বরে কথা বলেছিলেন।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওর একটি খণ্ডিত অংশে দেখা যায়, সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে এমপি হানজালা উপস্থিত কয়েকজনকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় কথা বলছেন এবং টেবিল চাপড়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি হানজালা বললেন, ‘প্রায় এক মাস আগে দত্তপাড়া এলাকায় চাচাতো ভাইদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকে আমাকে ডাকা হয়। সালিশের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হতে থাকে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি উত্তেজিত স্বরে কথা বলি। এমনকি সালিশ ছেড়ে চলে আসারও ইচ্ছা প্রকাশ করি। পরে সবাই শান্ত হলে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘সালিশে উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সামনে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছিল এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বেরও অবসান ঘটে।’ তবে ভিডিওর একটি অংশ কেটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

জানা গেছে, গত ২২ মে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এমপি হানজালাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উপস্থাপনের সময় প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে কথা বলার কারণে বৈঠকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে সালিশে উপস্থিত তারামিয়া নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বিচার কার্যক্রমে অন্যদের মতামত উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত ছিল বলে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন।
তার মতে, জনসম্মুখে অনুষ্ঠিত সালিশে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা উচিত।

গত শনিবার বিকালে উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় এক জনসভায়ও ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন এমপি হানজালা। তিনি বললেন, ‘সালিশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা বন্ধ করতেই তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।’