রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে রিক্তা মণি (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে হত্যার পর আটতলা থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা শাহীন মিয়া। শিশুটি ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কে প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতের বাসায় কাজ করত। এই ঘটনায় ঐ দম্পতির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেছেন শাহীন মিয়া। ঐ মামলায় দম্পতিকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যা মামলা হলেও আসলে সেখানে কি ঘটেছিল সে ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ঘটনাটি সত্যিই হত্যাকাণ্ড হলে দম্পতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে শিশুটির বাবা গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। সেই মামলায় তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ঐ ভবনটির কেয়ারটেকার শহীন মিয়া জানান, গত শুক্রবার সকালে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা বিকট শব্দ শুনে ভবনের পেছনে গিয়ে দেখেন রিক্তা পড়ে আছে। মেয়েটি ১০ তলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমানের বাড়িতে কাজ করত। দ্রুত আমরা সেখানে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরাই তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিক্তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
রিক্তার বাবা শাহীন মিয়া অভিযোগ করেছেন, ১০ তলা থেকে পড়ে মৃত্যুর মতো আঘাতের চিহ্ন তার মেয়ের শরীরে ছিল না। মেয়েকে আগেই হত্যা করা হয়েছে। তারা ছাদ থেকে পড়ে গেছে গেছে বলে দাবি করলেও এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।
জানা গেছে, ঐ বাসায় গৃহকর্তা, তার স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তানের সঙ্গে শিশুটি থাকত। সকালে শিশুটিকে নিচে পাওয়ার পর জিগাতলার বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে পরীক্ষানিরীক্ষার পর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে কাজের সন্ধানে গাজীবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ঢাকায় আসে রিক্তা। এরপর আইয়ুব আলী নামে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে রাজধানীতে রিক্তার কাজের ব্যবস্থা করে গাজীবুর। তবে গাজীবুরের অভিযোগ, যে বাসায় কাজ দেওয়ার কথা ছিল সেখানে না দিয়ে, পরিবারের অজান্তে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্য একটি বাসায় কাজের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় রিক্তাকে। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
গাজীবুর রহমান বলেন, যে বাসায় দেওয়া হয়, ঐ বাসার মালিক শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফোন দিয়ে বলেন, ভাই মেয়েটা তো অসুস্থ বেশি, হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। আপনারা একটু আসেন। এরপর মেডিক্যালে আসার পর শুনি বাচ্চাটা মারা গেছে। সেখানে কি ঘটেছে সে ব্যাপারে আমরা আসলে কিছুই জানি না।