মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘর ছেড়ে নিজ ভিটেমাটিতে ফিরতে চান। কিন্তু ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরতে পারেনি। বরং উলটো নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। গতকাল শনিবার বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিশ্ব শরণার্থী দিবসে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠে একটাই আকুতি আমরা শরণার্থী পরিচয়ে নয়, নিজ দেশে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে চাই। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ক্যাম্পের সীমাবদ্ধ জীবনে তারা মানবিক সংকট, অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই দাবি, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হোক। উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা, রাখাইনের কুয়ার বিল এলাকার হেদায়েতুল জান্নাত বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব শান্তিতে দিন কাটিয়েছি। সেখানে কোনো কিছুর অভাব ছিল না, ছিল বড় বাড়ি, বিস্তৃত ভিটেমাটি, সবই ছিল। কিন্তু মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজেদের সহায়-সম্পদ ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা কখনো ভাবিনি এভাবে শরণার্থী জীবন কাটাতে হবে। ক্যাম্পে খাবার পেলেও ঝুপড়ি ঘরে ৬ সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছি
আরেক রোহিঙ্গা শরণার্থী, রাখাইনের বলিবাজার এলাকার মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে আমরা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে ক্যাম্পে বসবাস করছি। বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত ও নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন কার্যকর ভূমিকা নেয়।
অপরদিকে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে। এর পাশাপাশি নতুন করে আরো প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। দিন দিন ক্যাম্পে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে, অপহরণ, খুন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তত্পরতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, প্রতিদিনই ক্যাম্পে শিশু জন্ম নিচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গা যুবকদের বিয়ের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তবে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার বলেন, ক্যাম্পে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধ তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধকে কেন্দ্র করেই ঘটে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা তত্পরতা আরো জোরদার করা হয়েছে।