Image description

রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’ (৫৫)। শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে এশিয়া পোস্টকে বলেন, পলাশের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর একটু আগে আমাদের কাছে এসেছে।

এর আগে গত ১২ জুন (শুক্রবার) রাজধানীর রামপুরার টিভি সেন্টার এলাকায় জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন ধরে তার জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছিল। গুলির ঘটনার পরপরই তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় অনেকেই বলেন, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে আবার মৃত্যুর গুঞ্জন শুরু হয়, যখন তাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন কেউ কেউ দাবি করেন, মৃত্যুর খবর গোপন রেখে তার লাশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আবারও তার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় তার অবস্থার অবনতি হলেও তিনি জীবিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার ফিরে আসার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে তার বুকে দীর্ঘ সময় ধরে পাঞ্চ (সিপিআর) করার পর তার নিশ্বাস সচল হয়।

এ বিষয়ে তখন জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে একাধিক ব্যক্তি পলাশের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে কল দেন। কিন্তু তখন তিনি বেঁচে ছিলেন। তবে তার অবস্থার বেশ অবনতি হয়েছিল।

ওসি বলেন, পলাশের গুলির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজের সূত্র ধরে হামলার পর গুলিবর্ষণকারীকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে ইমাম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অপরাধ জগতের পরিচিত একটি নাম ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারামুক্তির অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার শিকার হন তিনি।

কাইল্যা পলাশের মৃত্যুর মাধ্যমে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের বহুল আলোচিত এক ব্যক্তির অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তবে তাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে। তার গুলির ঘটনার মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ তদন্ত করছে। গুলির ঘটনাটি এখন হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়ে যাবে।